বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ পৌর এলাকায় পাওনা টাকা নিয়ে সালিশ চলাকালে পুলিশের সামনে খোরশেদ শিকদার (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে লাথি মেরে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন।
রোববার (২২ মার্চ) বিকেলে পৌরসভার ১ নম্বর চরহোগলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এই হত্যাকাণ্ডে পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে নিহতের স্বজনরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২৪ বছর আগে একটি ভবন নির্মাণ করেছিলেন খোরশেদ শিকদার। ওই বিল্ডিংয়ের কাজের পাওনা ৫০ হাজার টাকা দাবি করে আসছিলেন স্থানীয় ঠিকাদার জাহাঙ্গীর হাওলাদার। এই বিরোধ মেটাতে রোববার বিকেলে পুলিশের উপস্থিতিতে সালিশ বসে।
সালিশে পুলিশ সদস্যরা দুই দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিলেও খোরশেদ শিকদার জানান, আগামী কোরবানির ঈদের আগে তিনি টাকা দিতে পারবেন না। এই নিয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
নিহতের ভাতিজি সানজিদা আক্তার বলেন, ঠিকাদার জাহাঙ্গীরের বড় ছেলে নাঈম আমার চাচাকে হুমকি দিচ্ছিল। একপর্যায়ে আমি যখন ভিডিও ধারণ করছিলাম, তখন উনার মেজ ছেলে জাফর আমাকে থাপ্পড় মারে এবং পোশাক ছিঁড়ে ফেলে। আমার বাবা ও ভাইকে কুপিয়ে জখম করা হয়। একপর্যায়ে আমার চাচা খোরশেদ শিকদার এগিয়ে এলে নাইম, জাফর তাকে লাথি মারে। এতে তিনি পড়ে গেলে জাহাঙ্গীর ও তার ছেলেরা চাচাকে পিটিয়ে হত্যা করে।
তিনি আরও বলেন, একটা মানুষকে প্রশাসনের সামনে খুন করে ফেলেছে। আমরা এর বিচার চাই।
এদিকে হামলায় সিরাজুল ইসলাম (৫১), মোকসেদ সিকদার (২২), রকিব সিকদার (২৬) ও সানজিদা আক্তার (২২) নামে চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ বিষয় কথা বলতে মেহেন্দীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানের ফোনে কয়েকবার চেষ্টা করেও সাড়া না দেওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পাওনা টাকা নিয়ে মারামারি হয়েছে। এ সময় একজন পড়ে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। এ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত চলছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সালিশের মতো কিছু হচ্ছিল এবং ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক সদস্য ছিলেন। তবে প্রকৃত ঘটনা পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করবে।