ভারতের আদানি পাওয়ারের কারিগরি ত্রুটিযুক্ত ইউনিটটি মেরামত শেষে পুনরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে। সোমবার রাত পৌনে আটটা থেকে এই কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ আসা শুরু হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর ফলে সারা দেশে চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে বলে আশা করছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এর আগে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে কেন্দ্রটির একটি ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আদানির পাশাপাশি এসএস পাওয়ার, রামপাল ও মাতারবাড়ি কেন্দ্র থেকেও বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে বড় ধরনের কোনো লোডশেডিং নেই বলে তিনি দাবি করেছেন। গত মঙ্গলবার থেকে আদানির ওই ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। ওই সময়ে কেন্দ্রটির অন্য একটি ইউনিট থেকে নিয়মিতভাবে ৬৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছিল বাংলাদেশ।
এদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এক অনুষ্ঠানে জানান, আগামী সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে। আমদানিসহ দেশে বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৩২২ মেগাওয়াটে। তবে গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় চাহিদামতো উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।
বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার রাতে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না। ওই দিন রাত ৯টায় প্রায় ১১ হাজার ৪৭৯ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। এর আগে জ্বালানি সংকটের কারণে কয়েক দিন ধরে কোনো কোনো ঘণ্টায় দুই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করতে হয়েছিল। এখন বড় কেন্দ্রগুলো সচল হওয়ায় সেই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে।
বর্তমানে আদানির সচল হওয়া ইউনিটটি থেকে পর্যায়ক্রমে ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। কয়লাভিত্তিক বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। পিডিবি ও পিজিসিবি সূত্র নিয়মিতভাবে সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।