দেশজুড়ে যখন ঈদুল আজহার আনন্দ, তখন সেই আনন্দ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন নন কারাবন্দিরাও। পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের সুযোগ না থাকলেও দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দিদের জন্য নেওয়া হয়েছে বিশেষ আয়োজন। উন্নত খাবার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ—সব মিলিয়ে কারাগারেও বইছে ঈদের আমেজ।

কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিনসহ টানা তিনদিন বন্দিদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) কারা অধিদপ্তরের এআইজি (উন্নয়ন ও মিডিয়া) জান্নাত উল ফরহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ঈদের দিন সকাল ৮টায় দেশের সব কারাগারে বন্দিদের ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে সকালের নাস্তায় পরিবেশন করা হয় পায়েস, সেমাই ও মুড়ি।

এছাড়া সকাল ১০টা থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দুপুরের খাবারে বন্দিদের জন্য রাখা হয়েছে পোলাও, গরু বা খাসির মাংস, মুরগির রোস্ট, ডিম, মিষ্টি, কোল্ড ড্রিংকস ও পান-সুপারি। রাতের খাবারে থাকছে সাদা ভাত, রুই মাছ ভাজা ও আলুর দম।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে কারাগারে আসা দর্শনার্থীদের জন্য ফ্রি জুস কর্নার, চিপস ও চকলেটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ঈদের দ্বিতীয় দিনে বন্দিদের অংশগ্রহণে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং তৃতীয় দিনে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করা হবে।

জান্নাত উল ফরহাদ আরও জানান, ঈদের তিনদিনের মধ্যে যেকোনো একদিন বন্দিরা পরিবারের পাঠানো খাবার খেতে পারবেন। একইসঙ্গে একদিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সর্বোচ্চ পাঁচ মিনিট ‘আনডিউ’ কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে।

কারা সূত্র বলছে, প্রতিটি কারাগার নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী বন্দিদের জন্য আলাদা আয়োজন করেছে। দর্শনার্থীদের গ্রহণেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ফলে পরিবার থেকে দূরে থেকেও কিছুটা হলেও ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন কারাবন্দিরা।