পবিত্র ঈদুল আজহার ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ঢাকার কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী পশুর হাটগুলোর বর্জ্য এখনো অপসারণ করা হয়নি। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় ও পথচারী। উপজেলা প্রশাসনের  নির্দেশনা অনুযায়ী কোরবানির ১২ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করার কথা থাকলেও হাট কর্তৃপক্ষ তা মানেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগানগর ইউনিয়নের আমবাগিচা, জিনজিরা  স্থাপিত পশুর হাটগুলোর বর্জ্য এখনো রাস্তার উপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। হাট শেষ হওয়ার পরও রাস্তার ওপর থাকা বাঁশ ও খুঁটি সরানো হয়নি। জনদুর্ভোগের পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রব বেড়েছে।

শনিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আগানগর আমবাগিচা মাঠে লাগানো বাঁশখুঁটি এখনো খোলা হয়নি। বাবুবাজার ব্রিজের নিচে রাস্তার ওপর বাঁশ লাগানো রয়েছে। হাটের ভেতরের গোবর, কাদা মিশ্রিত খড় ও গো-খাদ্যের উচ্ছিষ্ট রাস্তার মধ্যে পড়ে আছে । আমবাগিচায় রাস্তার ওপর ময়লার স্তূপ দেখা যায়। একই চিত্র জিনজিরা হাটেও। জনি টাওয়ারের সামনে সড়কের ওপর জিনজিরা হাটের ময়লার স্তূপ রাখা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর ঈদের এমন পরিস্থিতি দেখা যায়। উপজেলা প্রশাসন ১২ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ঈদের তিন দিন পার হলেও আগনগর ও  জিনজিরা হাটে রাস্তার মধ্যে কোরবানি বজ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ভোগান্তিতে পড়ছে এলাকাবাসী ও পথচারীরা। পদক্ষেপ না নেয়া সমস্যা স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। দ্রুত বর্জ্য অপসারণ রাস্তা মুক্ত করার দাবি জানান তারা।

রিকশাচালক আবুল হোসেন  বলেন, হাট শেষ হলেও কোরবানি বজ্য এখনো রাস্তায় এতে আমাদের চলাচল ভোগান্তি। দুর্গন্ধে পথচারী চলাচল করতে পারছে না।  অনেক জায়গাতেই কোরবানির পশুর উচ্ছিষ্টাংশ অপসারণ করা হয়নি। কোথাও বর্জ্যের স্তূপ, কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পশুর নাড়িভুঁড়ি, খুর, শিং, চামড়ার অংশ ও রক্তাক্ত বর্জ্য।

আকাশ নামে এক পথচারী বলেন, কোরবানি হাটের বর্জ্য পচে দুর্গন্ধ বাতাসে মিশে পরিবেশ মারাত্মক বায়ুদূষণ করছে। দুর্গন্ধে রাস্তা দিয়ে হাঁটলে বমি আসে। চরম ভোগান্তি নিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

আগানগর এলাকা সিয়াম নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ঈদের ছুটিতে মাঠে খেলাধুলা করবো। কিন্তু ঈদের তিন দিন হলেও এখনো মাঠ থেকে কোরবানি হাটে বাঁশ খুলে নেয়া হয়নি। সরকারের আছে আবেদন আমাদের মাঠ যাতে দ্রুত পরিষ্কার করে দেওয়া হয়।

জিনজিরা হাটের ইজারাদার মোজাদ্দেদ আলী বাবুকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

আগানগর হাটে ইজারাদার আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি শুধু নামে ইজারাদার। এই হাট থেকে দুই টাকাও হাত দিয়ে ধরি নাই। স্থানীয়ও নেতারাই এই হাট নিয়ন্ত্রণ করেছে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক বলেন, কোরবানির বর্জ্য অপসারণে গাফিলতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফতাব আহমেদকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।