কোরবানির পশুর হাটের বর্জ্য অপসারণকে কেন্দ্র করে কেরানীগঞ্জে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক জনদুর্ভোগ ও বিতর্ক। ঈদের ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে যাচ্ছে কিন্তু কয়েকটি হাটে এখনো পুরোপুরি বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হয়নি। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

 

এদিকে রাজধানীজুড়ে কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা তদারকিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে গাড়ি চালিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা বিভিন্ন সড়ক পরিদর্শন করেছেন। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারও করা হয়েছে। তবে রাজধানীর পাশেই অবস্থিত কেরানীগঞ্জে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

বিষয়টি নিয়ে এনভি নিউজ২৪  সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে আগানগর বালুর মাঠ পশুর হাটের ইজারাদার ও তাদের অংশীদাররা। একই সঙ্গে জিনজিরা পশুর হাটেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে হাসনাবাদ পশুর হাটে এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। সেখানে কোরবানির পশুর বর্জ্য, কাঠ-বাঁশ ও বিভিন্ন অব্যবহৃত সামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে।

 

সরেজমিনে আগানগর বালুর মাঠ হাটে গিয়ে দেখা যায়, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দ্রুতগতিতে মাঠ, সড়ক এবং আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করছেন। বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি কাঠ, বাঁশ ও অন্যান্য অবশিষ্ট সামগ্রীও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

 

পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জানান, বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট কোনো স্থান না থাকায় তাদের কাজ করতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো এলাকা পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি।

 

এদিকে সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী হাট ইজারাদারদের সতর্ক করে বলেন, “জনগণের দুর্ভোগ কমাতে নেতাকর্মীদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।”

 

অন্যদিকে আগানগর হাটের ইজারাদার হাজী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, দায়িত্ব এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। তবে হাট পরিচালনার সঙ্গে ১৭ জন অংশীদার বিভিন্ন দায়িত্বে যুক্ত থাকায় সমন্বয়ের কিছু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও বর্জ্য অপসারণের দায়িত্বে থাকা শ্রমিকদের অনেকেই ঈদের ছুটিতে থাকায় কাজ বিলম্বিত হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, “আজকের মধ্যেই সব বর্জ্য অপসারণের কাজ সম্পন্ন হবে। কারও নাম উল্লেখ করে কোনো ধরনের দোষারোপ করার উদ্দেশ্য ছিল না, সাদামনেই কথাগুলো বলা হয়েছে।”

 

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ সার্কেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফতাব আহমেদ বলেন, “ঈদের ছুটির কারণে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সংকট দেখা দিয়েছিল। তবে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজ চলছে। আজকের মধ্যেই বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন না হলে সংশ্লিষ্ট হাট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কোরবানির পশুর হাট থেকে রাজস্ব আদায় করা হলেও বর্জ্য অপসারণে গাফিলতির কারণে তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে হাট ইজারাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।