রংপুর মহানগরীতে ফুটপাতের একটি দোকানে বাসনপত্র রাখার স্থানে পানের পিক ফেলায় এক কর্মচারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত সাড়ে আটটার দিকে নগরীর খামার মোড়ের মেয়রের গলি এলাকার একটি এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. শাওন ওই দোকানের কর্মচারী ছিলেন। তার বাড়ি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার নূরের চক গ্রামে।

ঘটনার পর অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মনুকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

ডিবি ধরে নেওয়ার সময় মিজানুর রহমান মনু সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্লেট-বাসন যেখানে আমি রাখি, ওইখানে টিস্যুও থাকে। ওইখানে পানের পিচকি (পিক) ফেলায় কলিজায় আঘাত লাগে। তখনই আমি ওই কামটা হুট করি আসি গেইছে। হাতুড়ি দিয়ে দুইটা আঘাত করছি।

মনুর বাবা আমির হোসেন বলেন, ‘ওর মানসিক সমস্যা আছে। একসময় তাকে তাবলিগে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে আসার পর সমস্যা আরও বেড়ে যায়। পরে সে মার্কাজ মসজিদে ছিল। সেখানে অনেক কবিরাজ ও মসজিদের লোকজন ঝাড়ফুঁক করে তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করেছেন। এখনও মাঝেমধ্যে তার মানসিক অবস্থা ঠিক থাকে না। আমি তাকে ধমক দিয়ে রাখি।’

এ বিষয়ে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, মনু হাতুড়ি দিয়ে শাওনের মাথার পেছনে দুই থেকে তিনটি আঘাত করে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

অভিযুক্তের মানসিক ভারসাম্যহীনতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ মানসিক ভারসাম্যহীন কি না, সেটি চিকিৎসকই বলতে পারবেন। তিনি মানসিক রোগে ভুগছেন বা চিকিৎসাধীন এমন কোনো প্রমাণ আমাদের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি। প্রায় আধা ঘণ্টা তার সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ মনে হয়নি।’