ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিন ডাকাত, দুই ছিনতাইকারী ও এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৪টি মোবাইল ফোন, ধারালো অস্ত্র, রশি, ৫১০ গ্রাম গাঁজা এবং একটি ডিজিটাল ওজন মেশিন উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে পৃথক তিনটি অভিযানে এসব আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডাকাত চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোর ৪টার দিকে আটিবাজার এলাকায় রাত্রিকালীন টহল দলের সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ডাকাত চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জহিরুল ইসলাম (৩৮), সানোয়ার হোসেন রিফাত (৩২) ও বাবুল (৪২)।

তাদের কাছ থেকে ১৪টি মোবাইল ফোন, দুটি চাকু ও একটি ধারালো দা উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলো ডাকাতি সংঘটনের আগে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের কাজে ব্যবহার করা হতো। এসব নম্বর তাদের পরিবার বা স্বজনদের কাছেও গোপন রাখা হতো। ডাকাতির পরিকল্পনা, লক্ষ্যস্থল নির্ধারণ এবং অন্যান্য সমন্বয়ের জন্য তারা এসব মোবাইল ব্যবহার করতেন। তারা সড়কে গাছ ফেলে এবং বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত বলেও স্বীকার করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটির অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অটো ছিনতাইকারী চক্রের ২ সদস্য আটক

একই রাতে শাক্তা ইউনিয়ন এলাকায় নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালনার সময় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ।

তল্লাশির সময় একজনের কোমর থেকে একটি ধারালো চাপাতি এবং অপরজনের কাছে থাকা পলিথিন ব্যাগ থেকে প্রায় ১৫ ফুট লম্বা পাটের রশি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জয় ইসলাম ফেরদৌস (২৬) ও সুমন (২২)।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, যাত্রী সেজে অটোরিকশায় উঠে নির্জন স্থানে গিয়ে চালকের ওপর হামলা চালাতেন। পরে চালকের হাত-পা বেঁধে অটোরিকশা ছিনতাই করে পালিয়ে যেতেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

এদিকে মাদকবিরোধী অভিযানে মালঞ্চ হাসপাতাল রোড এলাকার একটি মাঠ থেকে আলাল মিয়া নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ৫১০ গ্রাম গাঁজা এবং একটি ডিজিটাল ওজন মেশিন উদ্ধার করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে আলাল মিয়া স্বীকার করেছেন যে, তিনি রাতের বেলায় বিভিন্ন এলাকায় মাদকসেবীদের কাছে গাঁজা সরবরাহ করতেন।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমন, মাদক নির্মূল এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।