কেরানীগঞ্জের আগানগর এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের মাস্টাররোলের ড্রাইভার নাসিরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সরকারি জায়গা দখল, প্রভাব খাটানো এবং আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত রিকশাচালকদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সহযোগীদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নাসির সওজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে সরকারি জায়গা ব্যক্তিগতভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং সেখানে দোকানপাট বসিয়ে ভাড়া আদায়ের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়া আগানগর এলাকায় তিনি একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে তুলেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত সওজ কর্মচারী হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, নাসির সরকারি জায়গা ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত ভাড়া আদায় করেন। তিনি আরও দাবি করেন, তার কাছ থেকেও দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।
এদিকে একাধিক রিকশাচালক নাসিরসহ আরও দুইজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, সওজের জায়গা দখল করে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া আদায় করা হচ্ছিল। সম্প্রতি রিকশা গ্যারেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানোর অভিযোগও তারা তুলেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
রিকশাচালকদের আরও অভিযোগ, আগুনে পুড়ে যাওয়া রিকশার ধ্বংসাবশেষ তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে এবং সেখান থেকে মালামাল চুরি হওয়ার ঘটনায়ও নাসিরের সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী জাকির হোসেন বলেন, নাসির, মিরাজ হোসেন ও হারুন নামে তিনজন একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে সওজের জায়গা থেকে মাসিক ভাড়া আদায় করছেন। তার অভিযোগ, আগানগর ব্রিজ সংলগ্ন সওজের ফাঁকা জায়গায় যেসব ময়লার ট্রাক রাখা হয়, সেখান থেকেও নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয়।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত রিকশাচালকদের অনেকেই জানান, অগ্নিকাণ্ডে তাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। খোলা আকাশের নিচে কয়েকদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। পুড়ে যাওয়া রিকশাগুলোর ধ্বংসাবশেষ ফেরত পেলে অন্তত নতুন করে জীবিকা শুরু করার আশা করছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে সওজের মাস্টাররোলের ড্রাইভার নাসিরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারেন।
সওজের সাব-ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার নাজমুল হোসেন বলেন, প্রত্যেক রিকশাচালকের পুড়ে যাওয়া রিকশা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়া হবে, যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়। এ বিষয়ে নাসিরকে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এখনই সুনির্দিষ্ট কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন কন্ট্রোল রুমে জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
