ঢাকার কেরানীগঞ্জে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে তানজিলা (১৭) নামে এক কিশোরীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগে তার প্রেমিক রানা হাওলাদারকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার রানা হাওলাদার পটুয়াখালী জেলার চিকনিকান্দি এলাকার মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক। গত ৬ থেকে ৭ মাস ধরে রানার সঙ্গে তানজিলার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি তানজিলা রানার কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা জোগাড় করতে না পারায় তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

পিবিআই জানায়, গত ২৭ জুলাই বিকেলে রানা নিজের অটোরিকশায় তানজিলাকে নিয়ে ঘুরতে বের হন। পরে কালিন্দী ইউনিয়নের মদীনানগর এলাকায় শরিফ ফুড পার্কের পাশে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রানা তানজিলার গলা চেপে ধরে মাটিতে ফেলে দেন এবং সঙ্গে থাকা ফল কাটার ছুরি দিয়ে তার গলায় আঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই তানজিলার মৃত্যু হয়।

হত্যার পর রানা নিহতের দুটি স্মার্টফোন, একটি রুপার চেইন ও একটি ব্রেসলেট নিয়ে মরদেহ ফেলে পালিয়ে যান। পরে স্মার্টফোন দুটি নিজের বাড়ির পাশে খড়ের গাদায় লুকিয়ে রাখেন এবং অলংকার নিজের কাছেই রেখে দেন।

অভিযান চালিয়ে পিবিআই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, নিহতের দুটি স্মার্টফোন এবং রুপার অলংকার উদ্ধার করেছে।

পিবিআই আরও জানায়, গ্রেপ্তারের পর রানা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন কালিন্দী ইউনিয়নের মদীনানগর মাদ্রাসার পশ্চিম পাশে একটি হাউজিং প্রকল্পের খালি প্লট থেকে তানজিলার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা মোছা. নাসলিমা বেগম বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের একপর্যায়ে পিবিআই প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে এবং অভিযুক্ত রানাকে গ্রেপ্তার করে।