ঢাকার কেরানীগঞ্জে গত চার দিনে বিভিন্ন ঘটনায় চারটি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রেফতাররা হলেন- মোঃ মিন্টু (৪৫) ও মোঃ রানা(৩২)।
শুক্রবার সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল আবাসিক এলাকার ভিতর থেকে অজ্ঞাতনামা নারীর গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে প্রেরণ করে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রতি শুক্রবার ছুটির দিনে সকালে তারা ঝিলমিল আবাসিক এলাকার ভিতর ফুটবল খেলতে আসেন। আজও ফুটবল খেলতে খেলতে বলটি দূরে চলে যায়। ওই বলটি আনতে গিয়ে আগাছায় পূর্ণ খালি প্লটের মধ্যে অর্ধগলিত নারীর লাশ দেখতে পান। পরে ঘটনাটি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশকে জানালে তারা ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে।

এর আগে গতকাল ৩০ জুলাই কেরানীগঞ্জ মডেল থানার হযরতপুর এলাকা থেকে অজ্ঞাতনামা এক অটোচালকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়দের ধারণা ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে লাশটি ফেলে পালিয়ে গেছে।

এখন পর্যন্ত কারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তাদের পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।

গত ২৮ জুলাই মডেল থানার ব্রাহ্মণকিত্তা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে তানজিলা নামে এক কিশোরীর গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় ঢাকা জেলা পিবিআই গত বৃহস্পতিবার মোঃ রানা(৩২) নামে মূলঘাতককে গ্রেফতার করে।

পিবিআই জানায় ,কিশোরী তানজিলার সাথে অটোচালক রানার প্রেম ছিল। কিন্তু কিশোরী তানজিলার বাবা এই প্রেম মেনে নেয়নি। ইতিপূর্বে প্রেমিকা কিশোরী তানজিলা প্রেমিক অটোচালক রানাকে ৩০ হাজার টাকা ধার দিয়েছিলেন। কিন্তু তানজিলার পরিবার প্রেমিক রানাকে প্রত্যাখ্যান করায় এবং ৩০ হাজার টাকা প্রেমিকা তানজিলাকে যাতে ফেরত না দিতে হয় সেজন্য রানা তানজিলাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে।

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ২৭ জুলাই প্রেমিক রানা রাতে কৌশলে প্রেমিকা তানজিলাকে ডেকে এনে ব্রাহ্মণকিত্তায় একটি পরিত্যক্ত জায়গা জবাই করে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে মডেল থানা পুলিশ বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে একমাত্র ঘাতক প্রেমিক রানাকে গ্রেপ্তার করে। নিহত কিশোরী তানজিলার বাড়ি কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর এলাকায়।

গত ২৮ জুলাই রাতে মডেল থানার খোলামোড়া এলাকায় মমতাজ বেগম নামে এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় মিন্টু (৪৫)নামে একঘাতককে গ্রেফতার করা করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায় ঘটনার রাতে নিহত গৃহবধুকে ঘাতক মিন্টু তার বাসায় ডেকে আনে। এ সময় ওই গৃহবধূকে কৌশলে জুসের সাথে নেশা জাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে পান করিয়ে তাকে অজ্ঞান করে। পরে ঘাতক মিন্টু ঐ গৃহবধূকে ধর্ষণ করে। এই ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ঘাতক মিন্টু গৃহবধূ মমতাজ বেগমকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

পরে নিহত মমতাজ বেগমের চুল কেটে এবং তার চেহারায় বিভিন্নভাবে আঘাত করে বিকৃত করে গৃহবধূর লাশটি তার ভাড়া বাসার পাশেই ওই রাতেই ফেলে রাখে। পুলিশ খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

মডেল থানা পুলিশ প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তত্ত্বের ভিত্তিতে খবর পেয়ে মমতাজ বেগমের একমাত্র ঘাতক মিন্টুকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেফতারকৃত মিন্টুকে হত্যাকাণ্ডের আলামত সহ থানা পুলিশ আজ দুপুরে আদালতে প্রেরণ করে। মমতাজ বেগম মিন্টুর ভাইয়ের বাড়ির পাশেই এক বাড়িতে ভাড়া থাকতো।

এদিকে খোলামোড়া এলাকায় গত ২১ জুলাই রাতে চার সন্তানের জনক আলামিন নামে এক ব্যক্তি কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পেরে অভিমানে আত্মহত্যা করে।