নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাড়িতে ঢুকে স্বর্ণ ও নগদ টাকা লুটের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার দুজন একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। তাদের কাছ থেকে লুটের ঘটনায় ব্যবহৃত ও উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।
গত ৮ আগস্ট ভোরে ভুঁইগড় তালতলা সামছুল হক খান মসজিদ এলাকার একটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে ৩টা থেকে সোয়া ৪টার মধ্যে একদল দুর্বৃত্ত বাড়িটির গ্রিল কেটে ভেতরে ঢোকে। পরে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এবং মারধর করে নিয়ন্ত্রণে নেয় তারা। এ সময় প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৭ লাখ টাকা নিয়ে যায় ডাকাতরা।
ঘটনার পরদিন নয়, একই দিনে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী পরিবার। মামলাটি তদন্তে নিয়ে জেলা ডিবির একটি দল বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের পাশাপাশি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির কয়েকজনের পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হন তদন্তকারীরা।
এরপর ঢাকার তুরাগ ও রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরেও অভিযান চালায় পুলিশ। এসব অভিযানে শহিদুল খান (৪৬) এবং কাউসার মল্লিক ওরফে হৃদয়কে (২৭) আটক করা হয়।
শহিদুল বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিহারীপুর এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে হৃদয় সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর সোনাপুর এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশের অভিযানে দুইজনের কাছ থেকে ১ ভরি ২ রতি স্বর্ণ, দুটি মোবাইল ফোন, একটি ব্যাংক হিসাব এবং স্বর্ণ গলানোর বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া যায়।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন ডাকাত চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফতুল্লার ওই বাড়িতে ডাকাতির সময় ১৪ জনের একটি দল সক্রিয় ছিল। চক্রটির সদস্যদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি ও হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি লুট হওয়া টাকা-স্বর্ণ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।