অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ তাকে (মুহাম্মদ ইউনূস) প্রধান উপদেষ্টা বানিয়েছে জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে টিকিয়ে রাখার জন্য। ওসমান হাদির জানাজার মাঠে তিনি বলেছেন, তিনি ওসমান হাদিকে ধারণ করেন। কিন্তু একবারের জন্যও তিনি জানাজার ময়দানে বলেননি যে, এই খুনের বিচারের ব্যাপারে তিনি কী করবেন। মানে তার এই অসহায়ত্ব, তারা দেখতে পেয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা আসলে কীসের কারণে অসহায়, সেটা তারা জানতে চান। প্রধান উপদেষ্টাকে কে অসহায় করে তুলল, এটা জানাতে হবে। এটা না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে নির্বাচন দিয়ে এরপর তিনি চলে যাবেন, এটা হবে না। নির্বাচনের আগে এই হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এরপর নির্বাচন। এর আগে কোনো নির্বাচন নয়।
ওসমান হাদির বিচার হবে না; কিন্তু দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য সরকার আমাদের সঙ্গে বসে লিয়াজোঁ করবে এমন টিম ওসমান হাদি বানিয়ে যান নাই মন্তব্য করে সরকারের উদ্দেশে জাবের বলেন, ওসমান হাদিকে যারা খুন করেছে, তারা দেশে থাকলে অতি দ্রুত গ্রেফতার করুন। আর তারা যদি বিদেশে গিয়ে থাকে, তা হলে বিদেশে যেখানেই থাকুক, সেখান থেকে দেশে আনার ব্যবস্থা করুন। ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত খুনি ও তাদের মদদদাতাদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত ইনকিলাব মঞ্চ রাজপথ ছাড়বে না বলেও সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ছাড়া গতকাল বেলা ৩টায় শাহবাগ থেকে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল শেষে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার কথাও জানানো হয়।
সমাবেশ থেকে ৩ দাবি তুলে ধরা হয় :
১. দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করতে হবে। তদন্তের জন্য ‘এফবিআই অথবা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের‘ মতো পেশাদারি ও নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা সংস্থাকে যুক্ত করতে হবে।
২. গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে ঘাপটি মেরে বসে থাকা ‘আওয়ামী সন্ত্রাসীদের’ চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
৩. প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে জনগণের কাছে তাদের অপারগতার কারণ প্রকাশ করে হাদি ‘হত্যার দায় নিয়ে’ পদত্যাগ করতে হবে।
এর আগে শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতে দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানায় ইনকিলাব মঞ্চ। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংগঠনের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। জাবের বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য একটি দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক পেশাদার তদন্ত সংস্থার সহায়তা নিতে হবে। কোনো তথাকথিত ‘বন্দুকযুদ্ধ’ নয়, আমরা চাই প্রকাশ্য বিচার।