নির্বাচনী প্রচারণার মঞ্চে তখন উপচে পড়া ভিড়। হঠাৎ ভিড় ঠেলে সামনে এগিয়ে এলেন এক তরুণী। হাতে ধরা একটি মাটির ব্যাংক ও ছোট একটি থলে। তিনি বিএনপি মহাসচিবের হাতে সযত্নে তুলে দিলেন নিজের জমানো টাকা ও বাড়ির পোষা মুরগির ডিম। সাধারণ একজন ভোটারের এমন ভালোবাসা দেখে নিজেকে আর সামলে রাখতে পারেননি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জনসমক্ষেই কেঁদে ফেললেন তিনি।
হৃদয়স্পর্শী এই ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কাজীপাড়া এলাকায়। রবিবার সকালে সেখানে গণসংযোগে গিয়েছিলেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এই সংসদ সদস্য প্রার্থী। আনিছা আকতার নামের ওই তরুণী বিএনপি মহাসচিবকে বলেন, ‘স্যার, আপনার জন্য বাড়ির পোষা মুরগির কয়েকটি ডিম আর কিছু পয়সা এনেছি। নির্বাচনের জন্য এই সামান্য উপহারটুকু গ্রহণ করবেন।’
তরুণীর এই আবেগঘন কথায় এবং সামান্য উপহার হাতে নিয়ে যারপরনাই আপ্লুত হয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল। বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ওরা আমাকে একটা মাটির ব্যাংকে তার যে সঞ্চিত অর্থ, তা দিয়েছে নির্বাচনের খরচের জন্য। ডিমও দিয়েছে।’ কথা বলতে বলতে গলা ধরে আসে তার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবুল করুন। এই মেয়েটার আকুতিকে কবুল করুন।’
এর আগের দিন শনিবারও প্রচারণার সময় বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন মির্জা ফখরুল। সদর উপজেলার আকচার নিমবাড়ি এলাকায় গণসংযোগের সময় এক শিশু তার হাতে ৫০০ টাকার একটি নোট গুঁজে দেয়। শিশুটির ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে তিনি সবার উদ্দেশে বলেন, এই টাকা তিনি খরচ করবেন না। আজকের তারিখ লিখে সযত্নে রেখে দেবেন।
নির্বাচনী এলাকার মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে এভাবেই বরণ করে নিচ্ছেন। এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আল মামুন আলম জানান, এটি এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রচলিত একটি রীতি। তারা যাকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে মনে করেন, ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে তাকে সাধ্যমতো সহায়তা করেন। কেউ দেন জমানো টাকা, কেউবা ডিম, মুরগি বা ছাগল। আবার কেউ কেউ টাকার মালা পরিয়ে দেন।
শনিবার বিকেলে চিলারং ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানেও একই চিত্র দেখা যায়। মাধবপুর এলাকায় একদল নারী উলুধ্বনি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান এবং গলায় টাকার মালা পরিয়ে দেন। সেখানেও এক নারী তাকে হাঁসের ডিম উপহার দেন এবং পরম মমতায় মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। এছাড়া দেবীগঞ্জ বাজার ও আখানগর উচ্চবিদ্যালয় এলাকাতেও সাধারণ মানুষ তাকে মাটির ব্যাংক ও অর্থ দিয়ে সহায়তা করেছেন।
বারবার এই এলাকা থেকে নির্বাচন করার সুবাদে স্থানীয়দের সঙ্গে গভীর সখ্য গড়ে উঠেছে বিএনপি মহাসচিবের। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমি এই এলাকা থেকে বারবার নির্বাচন করি। কখনো জিতেছি, আবার কখনো হেরেছি। কিন্তু কেউ কাউকে ছেড়ে যাইনি। এলাকার মানুষের ভালোবাসার টানেই আমি তাদের কাছে সব সময় ফিরে আসি। এই ভালোবাসা কি ভোলা যায়?’
জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ বিষয়টিকে সাধারণ মানুষের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছেন। তিনি জানান, এলাকার মানুষ মনে করেন মির্জা ফখরুল একজন উপযুক্ত প্রার্থী। তাই প্রচারণার কাজ সহজ করতে এবং সমর্থন জানাতেই তারা ডিম বা টাকার মতো বিভিন্ন উপহার দিয়ে তাকে সহযোগিতা করছেন।