আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা–৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. শাহিনুর ইসলাম কেরানীগঞ্জকে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার রূপরেখা তুলে ধরেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার নির্বাচনী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘জনতার ইশতেহার: আধুনিক কেরানীগঞ্জ রূপকল্প ২০২৬–৩১’ প্রকাশ করেন।
রূপকল্পে তিনি বলেন, কেরানীগঞ্জের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় দখলমুক্ত করে সেখানে পর্যটন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালু করা হবে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর করা হবে এবং ভূমি অফিসে সংস্কার এনে দখলদারত্ব ও হয়রানি বন্ধ করা হবে।
তিনি আরও জানান, বুড়িগঙ্গা ঘেঁষে আধুনিক সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে এবং জাজিরা ব্রিজের সঙ্গে কেরানীগঞ্জের যোগাযোগ আরও গতিশীল করা হবে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জকে একটি সুপরিকল্পিত নগরীতে পরিণত করাই তার মূল লক্ষ্য।
ব্যবসা ও শিল্প উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী তিন বছর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির দাম না বাড়িয়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। পানগাঁও ও জিনজিরা এলাকাকে কেন্দ্র করে আধুনিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে এবং ‘নকল জিনজিরা’ অপবাদ ঘুচিয়ে একটি বৈধ ও টেকসই শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে।
শিক্ষা খাতে সরকারি হাইস্কুলসহ আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল ভবন সংস্কার এবং কারিগরি ও আইটি প্রশিক্ষণ চালু করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। স্বাস্থ্য খাতে আধুনিক হাসপাতাল, বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের প্রতিশ্রুতিও দেন।
অধ্যক্ষ শাহিনুর ইসলাম বলেন, যুবসমাজকে কর্মমুখী করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী করতে সহজ শর্তে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে।
নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশুদের জন্য খেলার মাঠ ও ধর্মীয় ও সামাজিক স্থাপনা—মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান ও শ্মশান উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, “রাজনীতিতে আমার প্রধান উদ্দেশ্য মানুষের সেবা করা। কেরানীগঞ্জকে আমরা একটি নিরাপদ, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপ দিতে চাই।”