র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের পথ চূড়ান্ত হলো। ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল-২০২৬’ সংশোধিত আকারে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ বিলটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন।
নতুন আইনের উদ্দেশ্য হিসেবে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন বাহিনীতে প্রশিক্ষণ, পেশাদারত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সংশোধিত আকারে সংসদে উপস্থাপনের সুপারিশ করে। কমিটির আলোচনায় অতীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপব্যবহারের বিষয় উঠে এলেও দক্ষ জনবল ও বিদ্যমান সরঞ্জাম কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তবে বিলটি নিয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা একাধিক আপত্তি তুলেছেন। তাদের আশঙ্কা, র্যাবের জনবল, সম্পদ ও কাঠামো সরাসরি নতুন বাহিনীতে স্থানান্তর করা হলে নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে আগের বাহিনীকেই নতুন রূপে ফিরিয়ে আনার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছিল।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, র্যাবের জনবল, ক্ষমতা, সম্পদ, তহবিল, নথিপত্র ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয় নতুন এসআরবির কাছে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগ নিষ্পত্তি ও সদস্যদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য পৃথক কাঠামোর কথাও আইনে রাখা হয়েছে।
এর আগে ১৭ আগস্ট মন্ত্রিসভা র্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে এসআরবি গঠনের আইনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছিল। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর বিলটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয় এবং সংসদীয় কমিটির পর্যালোচনা শেষে বৃহস্পতিবার তা পাস হলো।