• শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মাঠে ফিরলেন নেইমার: সেলেসাও শিবিরে স্বস্তির সুবাতাস ও নতুন আশার সঞ্চার গাজীপুরে পোশাক কারখানায় পানি খেয়ে অসুস্থ ২ শতাধিক শ্রমিক তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ না পেয়ে শিশুকে হত্যা, বস্তায় মরদেহ শুধু পোস্ট করে ফেসবুক থেকে আয় করুন ৩ হাজার ডলার কেরাণীগঞ্জে ৭৬৯ জনের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করলেন আমান উল্লাহ আমান প্রধানমন্ত্রীর পছন্দেই চূড়ান্ত হবে ব্র্যান্ড ও মডেল ভূঞাপুরে যমজ বোনের সঙ্গে যমজ ভাইয়ের বিয়ে বিশ্বকাপের গানে রাসেল আলীর অবদানে গর্বিত ওয়ারফেজ সিসিটিভিতে নজরদারি, বিয়ের ৪৮ দিনের মাথায় নিজেকে শেষ করলেন নারী মানবিক বিবেচনায় হাসপাতাল খুলে দেওয়ার আবেদন আদ-দ্বীনের

আর্থিক খাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে সঠিক রিপোর্টিং ও স্বচ্ছতা : অর্থমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হিসাববিদদের ‘স্বপ্রণোদিত নিয়ন্ত্রণ’ বা সেলফ-রেগুলেশনের আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস ও কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টসদের পেশাগত সততা বজায় রেখে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সঠিক ও প্রকৃত আর্থিক চিত্র (ফেয়ার পিকচার) তুলে ধরার ওপর তিনি জোর দেন।
আজ বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (FRC) আয়োজিত ‘এফএআর সামিট (FAR Summit)’–এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের সামিটের প্রতিপাদ্য ছিল ‘Trustworthy Financial Reporting: What Really Matters’।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি অস্থির সময় পার করেছে। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা, তদারকি ব্যবস্থা ও ওয়াচডগ বডিগুলো প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছিল, যার ফলে আর্থিক খাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। মিথ্যা রিপোর্টিং বা ফলস রিপ্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে দুর্বল কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে, ফলে ভালো ও মৌলিক কোম্পানিগুলো বাজারে আসার আগ্রহ হারিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা এখন একটি ক্রসরোডে দাঁড়িয়ে আছি। বর্তমান সরকার এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকবে। এফআরসি, আইসিএবি এবং আইসিএমএবি এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমই দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। কোনো রেগুলেটরি বডির পক্ষেই প্রতিদিন ডে-টু-ডে গিয়ে ভুলত্রুটি ধরা সম্ভব নয়; তাই হিসাববিদদের নিজেদেরই স্বপ্রণোদিত নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা নিতে হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে আস্থা রেখে অতীতে বিজিএমইএকে যেভাবে ইউডি সার্টিফিকেট প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং তারা সফল হয়েছিল, ঠিক তেমনি আইসিএবি ও আইসিএমএবিকে কেবল আনুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ না রেখে সদস্যদের পারফরম্যান্স ও অডিট কার্যক্রম কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে বড় বড় ফান্ড ম্যানেজার ও বিনিয়োগকারীরা এখন বাংলাদেশের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছে। জেপি মরগ্যানসহ বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে আসতে চায়। আমরা হংকং ও লন্ডনে বাংলাদেশ-নির্ভর ফান্ড ফ্লোট করার পরিকল্পনা করছি এবং পাশাপাশি ডোমেস্টিক বন্ড চালু করতে যাচ্ছি। তবে এসব বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রথম শর্তই হলো নির্ভরযোগ্য আর্থিক প্রতিবেদন। বিনিয়োগকারীরা যদি অডিট রিপোর্টে আস্থা না পায়, তবে কোনো সংস্কারই কাজে আসবে না।
তিনি স্বল্পমেয়াদি সুবিধার চিন্তা বাদ দিয়ে বৈশ্বিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার জন্য পুঁজিবাজার, এনবিআর এবং আর্থিক খাতের সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম (বিটিএমএ ভাইস প্রেসিডেন্ট)। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া, চেয়ারম্যান এফআরসি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...