ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের চিরচেনা সেই ছন্দ আর শৈল্পিক ড্রিবলিংয়ের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে ভক্তরা। অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। চোটের কালো মেঘ কাটিয়ে নীল-হলুদ জার্সিতে আবারও অনুশীলনে ফিরেছেন নেইমার জুনিয়র। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির সবুজ ঘাসে সতীর্থদের সঙ্গে তার উপস্থিতি কেবল একটি সাধারণ অনুশীলন নয়, বরং পুরো ব্রাজিল দলের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের এক জোরালো বার্তা।
গত ১৭ মে সান্তোসের হয়ে খেলার সময় ডান পায়ের কাফ ইনজুরিতে পড়ার পর থেকেই মাঠের বাইরে ছিলেন এই ফরোয়ার্ড। বিশ্বকাপের মূল স্কোয়াডে জায়গা পেলেও মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তাকে কেবল সাইডবেঞ্চেই বসে থাকতে হয়েছে। সেই ম্যাচে ব্রাজিলের ১-১ ড্র ভক্তদের মনে কিছুটা শঙ্কা জাগিয়েছিল। তবে বুধবারের অনুশীলনে নেইমারের বল নিয়ে কারিকুরি আর সাবলীল মুভমেন্ট সেই শঙ্কাকে স্বস্তিতে রূপান্তর করেছে। যদিও শুরুতে তিনি এককভাবে ওয়ার্ম-আপ করেছেন, তবে পরবর্তীতে দলের মূল ড্রিলগুলোতে অংশ নিয়ে নিজের প্রস্তুতির জানান দিয়েছেন।
ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) এবং কোচ কার্লো আনচেলত্তি নেইমারকে নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করতে চান না। হাইতির বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচে তাকে মাঠে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা থাকলেও মেডিকেল বিভাগের মূল লক্ষ্য নকআউট পর্বের আগে তাকে শতভাগ ফিট করে তোলা। আনচেলত্তির কৌশলে নেইমার কেবল একজন গোলদাতা নন, বরং মাঝমাঠ ও আক্রমণের যোগসূত্র। তার অনুপস্থিতিতে দল যে সৃজনশীলতার অভাব বোধ করছিল, তা কাটিয়ে ওঠাই এখন সেলেসাওদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
বিশ্বকাপের এই কঠিন পথচলায় নেইমারের ফেরাটা কেবল শারীরিক সক্ষমতার বিষয় নয়, এটি মানসিকভাবেও দলকে উজ্জীবিত করবে। গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতে এবং হেক্সা জয়ের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে নেইমারের জাদুকরী পারফরম্যান্সের দিকেই তাকিয়ে আছে ফুটবল বিশ্ব। নকআউট পর্বের আগেই তিনি পূর্ণ ছন্দে ফিরবেন, এমনটাই প্রত্যাশা ফুটবল অনুরাগী ও ব্রাজিল শিবিরের।