• সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০৫ অপরাহ্ন

কেরানীগঞ্জে ১০ দিনে ৭ মরদেহ উদ্ধার, আতঙ্কে স্থানীয়রা

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬

কেরানীগঞ্জে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে সাতটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রেমঘটিত হত্যা, ছুরিকাঘাতে মৃত্যু, রহস্যজনক মৃত্যু এবং তিন নারীসহ এক রাজমিস্ত্রির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বাসিন্দারা।

রোববার (২ আগস্ট) সর্বশেষ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নে আদ-দ্বীন মোমিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেছনে একটি পরিত্যক্ত ইটভাটার পাশ থেকে ৬৫ বছর বয়সী রাজমিস্ত্রি চান মিয়া গাজীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

গত ১০ দিনের ঘটনাপ্রবাহে দেখা গেছে, প্রায় প্রতি এক থেকে দুই দিন পরপরই একটি করে মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। কয়েকটি ঘটনার রহস্য উদঘাটিত হলেও অধিকাংশ ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো তদন্তাধীন।

গত ৩০ জুলাই হযরতপুরের ভাটারকান্দি এলাকা থেকে অটোরিকশাচালক লিয়াকত আলীর (৬০) ছুরিকাঘাতে নিহত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।

২৮ জুলাই কেরানীগঞ্জ মডেল থানার মদিনানগর এলাকায় কিশোরী তানজিলা হত্যাকাণ্ডটি সবচেয়ে আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তার প্রেমিক রানা হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি, একটি মোবাইল ফোন এবং স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।

এর আগে ২৬ জুলাই খোলামোড়া এলাকা থেকে মমতাজ (৩০) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় পুলিশ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে এবং অভিযুক্ত মিন্টুকে গ্রেপ্তার করে।

একই দিনে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের একটি পরিত্যক্ত প্লট থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার পরিচয় শনাক্তে পিবিআই, সিআইডি ও স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে।

এর আগে ২১ জুলাই খোলামোড়া এলাকা থেকে রুহুল আমিন (৪০) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঋণ ও আর্থিক সংকটের কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ অপমৃত্যুর মামলা করে তদন্ত চালাচ্ছে।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জামিলুল হক বলেন, আলোচিত কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য ইতোমধ্যে উদঘাটন করা হয়েছে। মমতাজ, তানজিলা ও লিয়াকত আলী হত্যা মামলার অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় নারী ও রাজমিস্ত্রি চান মিয়ার মৃত্যুসহ বাকি ঘটনাগুলোর তদন্তও গুরুত্বের সঙ্গে চলছে।

এদিকে, অল্প সময়ের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা নির্জন এলাকা ও আবাসিক প্রকল্পে নিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত পুলিশ টহল বৃদ্ধি এবং তদন্ত দ্রুত শেষ করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...