সুন্দরবনের ঢাংমারী খালের বাঁকে ওত পেতে থাকা বিশাল আকৃতির কুমিরের ছাগল শিকারের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করলেন পর্যটকরা। লোকালয়ের ছাগল খালের চরে ঘাস খেতে গিয়ে কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়েছে। ওত পেতে থাকা কুমির মুহূর্তে ছাগলটিকে পানির নিচে টেনে নেয়। পরে ভেসে উঠে মুখ থেকে ছুড়ে মারে ছাগলটিকে। ওই জলপথ দিয়ে ট্যুর বোটে যাওয়া পর্যটকদের মোবাইল ফোনে ধরা পড়ে কুমিরের শিকার করার এ দৃশ্য। মুহূর্তেই এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কুমিরের ছাগল শিকার করার এ দৃশ্য দেখা গেছে শনিবার দুপুর পৌনে ১টায় ঘাগরামারী বন অফিসের পাশে বনবিবি রিসোর্টের সামনের খালে।
পর্যটক ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার দুপুরে হঠাৎ করেই ঢাংমারী খালের পানিতে একটি বিশাল কুমির দেখা যায়। এ সময় কুমিরটি খালের চর থেকে একটি ছাগল শিকার করে পানির নিচে টেনে নেয়। পরে ভেসে উঠে মুখ থেকে ছুড়ে দিয়ে ছাগলের অঙ্গপ্রতঙ্গ খাচ্ছিল। হঠাৎ এমন দৃশ্য দেখতে পেয়ে বনবিবি রিসোর্টের আশপাশের মানুষ ও পর্যটকদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। বন্যপ্রাণীর এমন দৃশ্য অনেকে উৎসুক হয়ে প্রত্যক্ষ করেন।
ঢাংমারী গ্রামের মৎস্যজীবী নজীর খাঁন জানান, সুন্দরবনের এই খালের বাঁকে বাঁকে বিশালাকৃতির রাক্ষুসে কুমিরের বসবাস। জোয়ার-ভাটার টানে কুমিরগুলো লোকালয়সংলগ্ন খালের চরে বা পাড়ে চলে আসে। তিনি জানান, ৩/৪ বছর আগে তার কলেজপড়ুয়া ছেলে খালের হাঁটুসমান পানিতে গোসল করতে নেমে কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়েছিল। বিশালাকৃতির কুমিরটি তখন তার ছেলেকে পা কামড়ে গভীর পানির তলদেশে নিয়ে যায়। তখন জীবন বাঁচাতে কুমিরের চোখে আঙুল ঢুকিয়ে দিলে কুমির তাকে মুখ থেকে ছেড়ে দেয়। এতে ছেলেটি বেঁচে যায়। এদিকে সম্প্রতি সুন্দরবনের শেলা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে কুমিরের আক্রমণে এক নারী জেলের মৃত্যু হয়েছে।
সুন্দরবনের করমজল কুমির ও বন্যপ্রাণী প্রজননকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, সুন্দরবনের নদী-খালের সর্বত্রপ্রায় কুমিরের স্বাভাবিক বিচরণ রয়েছে। তাই বনের নদী-খালের চরাঞ্চলে গৃহপালিত প্রাণী চরানো এবং জেলে ও সাধারণ মানুষের আরও সতর্ক হতে হবে। ২০১১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সুন্দরবনের নদী-খালে ২০৯টি কুমির অবমুক্ত করা হয়। এখন কুমিরের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।