• রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কেরানীগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযানের উদ্বোধন কেরানীগঞ্জে জিপিএ-৫ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেশে সারের ঘাটতি নেই, কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হচ্ছে: আমানউল্লাহ বিএনপি-আ.লীগ মিলেমিশে বালু উত্তোলনের ব্যবসা র‍্যাবের বদলে এসআরবি, সংসদে বিল পাস ফ্ল্যাট থেকে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার, মিলল চাপাতি ও খেলনা হ্যান্ডকাফ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের পুকুরে নেমে দুই নারীর মৃত্যু স্বামীর সঙ্গে বিরোধ মেটানোর কথা বলে কিশোরীকে ধর্ষণ, বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার কেরানীগঞ্জে নকল ডিটারজেন্ট কারখানায় অভিযান, মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা কেরাণীগঞ্জ ও শোয়ারিঘাটে পৃথক অভিযানে ভারতীয় পণ্য ও পলিথিন জব্দ

অবৈধ দখল ও বিশৃঙ্খলায় নাকাল বাবুবাজার সেতু, দুর্ভোগে লাখো যাত্রী

রানা আহমেদ
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংযোগ বাবুবাজার সেতু। তবে যানজট, অবৈধ দখল ও ট্রাফিক শৃঙ্খলার অভাবে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এ পথে চলাচলকারী হাজারো মানুষকে। বিশেষ করে কেরানীগঞ্জ, দোহার ও নবাবগঞ্জের যাত্রীদের কাছে সেতুটি এখন ভোগান্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরান ঢাকা ও কেরানীগঞ্জের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে নির্মিত সেতুটির ওপর বর্তমানে নানা ধরনের অনিয়ম স্থায়ী রূপ নিয়েছে। সেতুর দুই পাশের সিঁড়ি ব্যবহার করে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পথচারী সরাসরি সড়কে ওঠানামা করছেন। এতে যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। এর পাশাপাশি সেতুর মাঝামাঝি অংশে অননুমোদিতভাবে যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে। বাস, সিএনজি ও অটোরিকশা মাঝপথে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলছে-নামাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত যানবাহন সেতুর ওপরই অপেক্ষমাণ থাকে। ফলে দিনের বেশির ভাগ সময়ই সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর একটি অংশজুড়ে ভাসমান ফল ও সবজির দোকানও বসছে। বাজার করতে আসা লোকজনের ভিড়ে চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে কম দামে পণ্য কেনার আশায় অনেক পথচারী ও চালক সেতুতেই থেমে কেনাকাটা করেন। এতে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সৃষ্টি হয় নিরাপত্তা ঝুঁকিও। অন্যদিকে উল্টো পথে রিকশা ও মোটরসাইকেল ও ভ্যান চলাচলের কারণে প্রায়ই উভয় দিকের যানবাহন আটকে পড়ে।

নায়াবাজারের ব্যবসায়ী মো. শহিদুল ইসলাম প্রতিদিন কয়েকবার এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করেন। তিনি বলেন, “দিন-রাত সব সময়ই সেতুতে যানজট থাকে। অটোরিকশা উল্টো পথে চলে, আবার সেতুর ওপরই স্ট্যান্ড করে দাঁড়িয়ে থাকে। অনেক সময় হাঁটার জায়গাও পাওয়া যায় না। বিরক্ত হয়ে এখন অনেক সময় নৌপথ ব্যবহার করি।”

একই অভিযোগ করেন বাদামতলীর ফল ব্যবসায়ী মো. লিটন। তাঁর ভাষ্য, “সেতুতে নিয়ম-কানুনের কোনো বালাই নেই। ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয় না। অবৈধ দোকান, উল্টো পথে যান চলাচল আর মাঝপথে বাস থামানোর কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়।”

পথচারী আব্দুর রহিমের অভিযোগ, “সেতুর ওপর কোনো শৃঙ্খলা নেই। দোকান বসানো থেকে শুরু করে অবৈধ স্টপেজ—সবই চলছে প্রকাশ্যে। ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।”

চাকরিজীবী মো. সোহেল বলেন, “সেতুর মাঝখানে বাস ও ভ্যান থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো বন্ধ না করলে এই সমস্যার সমাধান হবে না। ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও চালকরা নিয়ম মানেন না। ফলে সাধারণ মানুষকেই দুর্ভোগ পোহাতে হয়।”

ট্রাফিক বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সীমিত জনবল ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। লালবাগ ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, সেতুর দুই প্রান্তের সিঁড়িগুলো অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের অন্যতম কারণ। পাশাপাশি অল্পসংখ্যক সদস্য দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করাও চ্যালেঞ্জিং।

তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান বলেন, সেতুতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ বাজার ও অনুমোদনহীন স্টপেজ উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বাবুবাজার সেতুতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে। অন্যথায় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবেশপথে ভোগান্তি আরও বাড়বে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...