ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে এক যুবককে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবক বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
ভুক্তভোগীর বড় ভাই মো. সাব্বির দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ মামলাটি রুজু করে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. বাপ্পি (২৮) দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় কালীগঞ্জ তানাকা মার্কেটে জুতার ব্যবসা করতেন। প্রায় চার মাস আগে চুনকুটিয়া বেবিস্ট্যান্ড এলাকায় যাওয়ার পথে এলাকার বাসিন্দা অভিযুক্ত মো. মামুন বাপ্পি (৪০) তার কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ ৩০ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলে অভিযুক্ত মামুন দুটি মোবাইল ফোন ফেরত দিলেও নগদ টাকা ফেরত দেয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, পরে টাকা ফেরত চাইতে গেলে বাপ্পিকে আরেক অভিযুক্ত মহিউদ্দিনের বাসায় যেতে বলা হয়। সেখানে গেলে তাকে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতন করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা বাপ্পির পায়ের উরুতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে বুকের ওপর বসে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চুনকুটিয়া রাজ কমিউনিটি সেন্টারের পাশে ফেলে রেখে যায়। পরে স্বজনরা উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অভিযোগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর ভাই সাব্বির বলেন, “আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। এখন সে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। আমরা দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও বিচার চাই।”
হাসপাতালে থাকা ভুক্তভোগীর বোন বলেন, “মাত্র ৩০ হাজার টাকার জন্য আমার ভাইকে নৃশংসভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তার পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়েছে। আমরা এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এজহারের ৭ নং আসামি মিলককে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।”