• মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কেরানীগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযানের উদ্বোধন কেরানীগঞ্জে জিপিএ-৫ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেশে সারের ঘাটতি নেই, কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হচ্ছে: আমানউল্লাহ বিএনপি-আ.লীগ মিলেমিশে বালু উত্তোলনের ব্যবসা র‍্যাবের বদলে এসআরবি, সংসদে বিল পাস ফ্ল্যাট থেকে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার, মিলল চাপাতি ও খেলনা হ্যান্ডকাফ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের পুকুরে নেমে দুই নারীর মৃত্যু স্বামীর সঙ্গে বিরোধ মেটানোর কথা বলে কিশোরীকে ধর্ষণ, বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার কেরানীগঞ্জে নকল ডিটারজেন্ট কারখানায় অভিযান, মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা কেরাণীগঞ্জ ও শোয়ারিঘাটে পৃথক অভিযানে ভারতীয় পণ্য ও পলিথিন জব্দ

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে প্রবাসীকে খুন, বাথরুমে মরদেহ সাত খণ্ড: পুলিশ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

রাজধানীর মুগদার সৌদি প্রবাসী মোকাররম (৩৮) হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান পলাতক আসামি তাসলিমা বেগম ওরফে হাসনাকে (৩১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার ( ২০ মে) সকালে নরসিংদী জেলার শিবপুর থানাধীন জয়নগর এলাকায় আসামির বোন শিল্পী আক্তারের বাড়ি থেকে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের মুগদা থানা পুলিশ এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের একটি চৌকস দল এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। প্রধান আসামি গ্রেপ্তারের পর এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটিত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ মে ভিকটিম মোকাররম মিয়া সৌদি আরব থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। তিনি গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় না গিয়ে, পূর্ব পরকীয়া সম্পর্কের সূত্রে সরাসরি মুগদা থানাধীন মান্ডা প্রথম গলি, আব্দুল করিম রোডের ২১৮ নম্বর বাসায় তার প্রেমিকা তাসলিমা ওরফে হাসনার বড়ো বোন হেলেনা বেগমের ভাড়া বাসায় ওঠেন।

পরবর্তীতে গত ১৭ মে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় জরুরী সেবা ‘৯৯৯’ থেকে সংবাদ পেয়ে মুগদা থানা পুলিশ ওই ভবনের নিচের ময়লার স্তূপ থেকে সাতটি কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ভিকটিমের মাথা ও বাম হাতবিহীন খণ্ডিত, অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পিবিআইয়ে সহায়তায় ভিকটিমের পরিচয় সনাক্ত করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর গত ১৮ মে র‍্যাব মামলার এক নম্বর আসামি হেলেনা বেগম (৪০) এবং তার মেয়ে হালিমা আক্তার (১৩)-কে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার আসামি হেলেনা বেগম বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তার দেখানো মতে মুগদা থানাধীন মানিকনগর বালুর মাঠ এলাকা থেকে ভিকটিমের বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশি তদন্ত এবং আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ভিকটিম মোকাররমের সঙ্গে আসামি তাসলিমার দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিলো। সম্পর্কের সূত্রে তাসলিমা ভিকটিমের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে সর্বমোট পাঁচ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। গত ১৪ মে দুপুর ১২টার দিকে ভিকটিম মোকাররম উক্ত টাকা ফেরত চান এবং তাসলিমাকে তার স্বামী সুমনকে ছেড়ে তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। তাসলিমা টাকা ফেরত দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে উভয়ের মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়ার সৃষ্টি হয়।

একপর্যায়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাসলিমা ভিকটিমকে পানির সঙ্গে ঘুমের ওুষধ খাইয়ে তন্দ্রাচ্ছন্ন করেন। পরে তাসলিমা, তার বোন হেলেনা এবং ভাগ্নি হালিমা আক্তারের সহায়তায় ধারালো বটি ও হাতুড়ি দিয়ে মোকাররমের মাথায়, ঘাড়ে ও গলায় উপর্যুপরি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

হত্যাকাণ্ড আড়াল করতে এবং লাশ গুমের উদ্দেশে তারা মরদেহ বাথরুমে নিয়ে ধারালো চাকু দিয়ে ভিকটিমের মাথা, হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করে রক্ত ধুয়ে ফেলে। এরপর খণ্ডিত অংশগুলো কালো পলিথিনে মুড়িয়ে মানিকনগর বালুর মাঠ ও মান্ডার একটি ভবনের নিচের আবর্জনার স্তূপে ফেলে আসে। অপরাধ সংঘটন শেষে প্রধান আসামি তাসলিমা ভিকটিমের ল্যাগেজ ও নিজের চার বছরের শিশুকে নিয়ে নরসিংদীতে আত্মগোপন করেন।

এ ঘটনায় ভিকটিম মোকাররমের চাচা বাদি হয়ে মুগদা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার প্রধান আসামি তাসলিমা বেগম ওরফে হাসনার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...