• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা কেরানীগঞ্জে আমান প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিহত ১ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার ‘মজা করে কমেন্ট করেছি’, প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে মন্তব্যে যুবকের ৭ দিনের রিমান্ড সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘মিথ্যা’ দাবি আইনজীবীর ওয়েবসাইট বন্ধ রেখেও সাইবার হামলার শিকার জনতা ব্যাংক কেরানীগঞ্জে যুব মহিলা লীগ নেত্রী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৩ কেরানীগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবনের পাশে অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার ইরানে দ্বিতীয় দফা যুদ্ধের শঙ্কা, বিপদে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬

নবজাতকের হাম হলে করণীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের হামের প্রকোপ বেড়েছে। ইতোমধ্যে দেশের ৫৬ জেলায় হাম ছড়িয়ে পড়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণত ৯ মাস বয়সে শিশুদের হাম টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু তার আগেই অনেক শিশু এ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে, যা অভিভাবকদের জন্য এক বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিশু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি শ্বাসযন্ত্রের একটি ভাইরাল সংক্রমণ এবং এটি খুব সংক্রামক রোগ যা সংক্রামিত লালা বা শ্লেষ্মা সংস্পর্শে ছড়িয়ে পড়তে পারে। যেসব শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
টিকার আগেই শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার কারণ
জন্মের পর কিছু সময় পর্যন্ত শিশুরা মায়ের শরীর থেকে প্রাপ্ত অ্যান্টিবডির মাধ্যমে সুরক্ষা পায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সুরক্ষা কমতে থাকে। ফলে ৬ মাসের পর থেকেই শিশুরা হাম ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে, যদিও তখন পর্যন্ত তাদের টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি।
আশপাশে যদি কেউ হাম আক্রান্ত থাকে, তবে শিশুর সংক্রমণের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। জনবহুল এলাকা, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি এবং টিকা না নেওয়া শিশুদের সংস্পর্শে আসাও এই ঝুঁকি বাড়ায়।
হামের লক্ষণগুলো
সাধারণ সর্দি-কাশি বা জ্বর দিয়ে হাম শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে দেখা দেয় জ্বর, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি। এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
শিশুদের সুরক্ষায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। যেহেতু হাম খুব দ্রুত ছড়ায়, তাই বাড়িতে বা আশপাশে কেউ আক্রান্ত হলে শিশুকে তার কাছ থেকে দূরে রাখুন।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। শিশুর হাত, কাপড়, খেলনা নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি। ঘরের পরিবেশ পরিষ্কার ও বায়ুচলাচলযুক্ত রাখুন।
ভিড় এড়িয়ে চলুন। অপ্রয়োজনীয়ভাবে শিশুকে জনসমাগমে নিয়ে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন, বিশেষ করে যখন আশপাশে হাম ছড়াচ্ছে।
মায়ের দুধ খাওয়ান। মায়ের দুধ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর। তাই যতদিন সম্ভব শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত।
দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। শিশুর মধ্যে হাম-এর কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করলে জটিলতা কমানো সম্ভব।
টিকা নেওয়ার সময় মিস করবেন না। শিশুর বয়স ৯ মাস পূর্ণ হলে অবশ্যই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হাম টিকা দিন। টিকা নেওয়া থাকলে রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
কেন বিষয়টি এত গুরুত্বপূর্ণ?
হাম শুধুমাত্র একটি সাধারণ ভাইরাল রোগ নয়, এটি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এমনকি মস্তিষ্কে সংক্রমণের মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে, যা শিশুর জন্য জীবন ঝুঁকিও হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। ছোট ছোট কিছু সতর্কতা, যেমন- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সঠিক পুষ্টি, আক্রান্তদের থেকে দূরে রাখা, এসবই শিশুকে বড় ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে।
শিশুর সুরক্ষায় পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের দায়িত্ব রয়েছে। সামান্য অসতর্কতা বড় বিপদের কারণ হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...