ভোলার চরফ্যাশনে চরম বিদ্যুৎ সংকটে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিনে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। পরীক্ষার প্রাক্কালে এমন পরিস্থিতিতে তাদের প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত—যে সময়টাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দেয়—ঠিক তখনই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
ফলে অন্ধকার ঘরে মোমবাতি বা চার্জ লাইটের ক্ষীণ আলোয় তীব্র গরম সহ্য করে পড়তে বাধ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এতে করে তাদের মনোযোগ ও পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ছে।
একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, “এভাবে চলতে থাকলে ভালো ফল করা অসম্ভব হয়ে যাবে। পড়তে বসলে বিদ্যুৎ থাকে না, আর বিদ্যুৎ এলে সময় থাকে না।”
লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজনির্ভর পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, অনলাইনভিত্তিক কাজ বন্ধ হয়ে পড়ছে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পড়ছেন চরম লোকসানে। পুরো এলাকায় বিরাজ করছে এক ধরনের অস্থিরতা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিনে গড়ে ১৪-১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি না থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, অন্তত এসএসসি পরীক্ষার সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
তবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ জ্বালানি সংকটের কথা বললেও দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের কোনো স্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এতে করে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে—লোডশেডিংয়ের এই অন্ধকারে কি হারিয়ে যাবে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন, নাকি দ্রুত পদক্ষেপে ফিরবে আলোর স্বাভাবিক ধারা?