• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা কেরানীগঞ্জে আমান প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিহত ১ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার ‘মজা করে কমেন্ট করেছি’, প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে মন্তব্যে যুবকের ৭ দিনের রিমান্ড সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘মিথ্যা’ দাবি আইনজীবীর ওয়েবসাইট বন্ধ রেখেও সাইবার হামলার শিকার জনতা ব্যাংক কেরানীগঞ্জে যুব মহিলা লীগ নেত্রী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৩ কেরানীগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবনের পাশে অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার ইরানে দ্বিতীয় দফা যুদ্ধের শঙ্কা, বিপদে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬

রামিসা হত্যা: সেই ডলার এখন কোথায়?

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

আলোচিত শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিচারকাজ যখন দ্রুত এগিয়ে চলছিল, ঠিক তখনই মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানার একটি বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। গত সোমবার (১ জুন) আদালতে মামলাটির চার্জ গঠনের শুনানির সময় আসামি সোহেল রানা নিজেকে আংশিক নির্দোষ এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করতে গিয়ে এই ‘ডলার’ নামের ব্যক্তির প্রসঙ্গটি সামনে আনেন।

আদালতে তোলার সময় এবং শুনানির একপর্যায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা চিৎকার করে বলেন, ‘আমি শুধু ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার’। তিনি দাবি করেন যে রামিসাকে গলা কেটে হত্যার মূল কাজটি এই ডলার নামের ব্যক্তিটিই করেছে। আদালতে আনার সময় সাংবাদিকদের সামনে সোহেল দাবি করে বলেন, ‘আমি একা দোষী না, আমার স্ত্রীর দোষ নেই। সব দোষ ডলারের। আমি ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার। ডলার দুই লাখ টাকা দিছে।’

নতুন নাম আসা ডলারের পরিচয় জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, মিরপুর ১১ নম্বর বাড়ি, অনেক টাকাওয়ালা। তিনি ওই ব্যক্তির পূর্ণ পরিচয় বা অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু না জানালেও সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, মেইন আসামি ডলারকে ধরেন, সে-ই রামিসাকে হত্যা করেছে।

এই বক্তব্যের পর মামলায় নতুন করে আলোচনায় আসে ‘ডলার’ নামটি। তবে, তদন্ত সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে ‘ডলার’ সম্পর্কিত বক্তব্যকে ‘ম্যাটার অব ট্রায়াল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (স্পেশাল পিপি) আজিজুর রহমান দুলু।

তার ভাষায়, ম্যাটার অব ট্রায়াল নিয়ে কোনো মামলার ডিসচার্জ হয় না। পুলিশ রিপোর্টে যেটা আমরা পাইনি, সে বিষয়ে প্রসিকিউশনের কিছু বলার নেই। আর ডিফেন্স থেকে যা বলা হয়, সেগুলো ম্যাটার অব এভিডেন্স, যা প্রমাণের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা হান্নান মোল্লা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ‘ডলার’ নামের কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, জেলখানার ভেতরে থাকতে কারও পরামর্শ নিয়ে আইনগতসুবিধা বা আর্থিক সুবিধা নিতে আসামি ডলারের নাম নিয়েছে। এ ছাড়া অন্যকিছু মনে হচ্ছে না।

এদিকে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে ডলার নামের ওই ব্যক্তিও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার দাবি, এ ঘটনার সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন। ডলার বলেন, রাজধানীর গুলিস্তানে পীর ইয়েমেনি মার্কেটে তার একটি পাঞ্জাবির দোকান ছিল। পরে লোকসানের কারণে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর পরিবারের সহযোগিতায় একটি অটোরিকশা চালানো শুরু করেন।

তিনি জানান, অটোরিকশা মেরামতের সূত্রেই সোহেল রানার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই গ্যারেজেই সোহেল কাজ করতেন। এক দিন কাজ না করায় সোহেলকে তিনি ধমক দিয়েছিলেন। হয়তো সেই ঘটনার জেরে কিংবা বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে তার নাম জড়ানো হচ্ছে। তবে কেন তাকে জড়িয়ে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

এদিকে পল্লবী এলাকার এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, রামিসা হত্যার পরবর্তী কয়েক দিন ডলারকে এলাকায় দেখা যায়নি। আন্দোলন, মানববন্ধন কিংবা প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও তার উপস্থিতি ছিল না। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর তাকে আবার এলাকায় দেখা যায় বলে দাবি করেছেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডলার হোসেন মিরপুর-১১ এলাকার একজন বাসিন্দা। তিনি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে সোহেল রানার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

গত ১৯ মে সকালে পল্লবীতে আলোচিত এই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। পরদিন ২০ মে (১৯ মে দিবাগত রাত) ১২টা ৫ মিনিটে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানো ও লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। এরপর তদন্তে মাঠে নামে পুলিশ। ঘটনার ৪ দিনের মাথায় ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। চার্জশিটে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়।

এর আগে, গত ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজ দিন ধার্য করেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে নৃশংস এ ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় নজিরবিহীন গতিতে মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...