• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা কেরানীগঞ্জে আমান প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিহত ১ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার ‘মজা করে কমেন্ট করেছি’, প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে মন্তব্যে যুবকের ৭ দিনের রিমান্ড সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘মিথ্যা’ দাবি আইনজীবীর ওয়েবসাইট বন্ধ রেখেও সাইবার হামলার শিকার জনতা ব্যাংক কেরানীগঞ্জে যুব মহিলা লীগ নেত্রী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৩ কেরানীগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবনের পাশে অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার ইরানে দ্বিতীয় দফা যুদ্ধের শঙ্কা, বিপদে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬

সাদা কাশফুলের পসরায় সেজেছে কেরানীগঞ্জ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঝকঝকে নীল আকাশে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘের ভেলা আর বাতাসে দুলতে থাকা শুভ্র কাশফুল। প্রকৃতি যেন নিজেই জানান দিচ্ছে শরতের আগমনী বার্তা। শরতের এই অপরূপ সৌন্দর্যে সেজেছে কেরানীগঞ্জের মাঠ-ঘাট, নদীতীর ও চরাঞ্চল। দিগন্তজোড়া কাশবনের টানে প্রতিদিনই সেখানে ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ।

কেরানীগঞ্জের সারিঘাট, রাজউকের ঝিলমিল আবাসিক এলাকা, হযরতপুর, কুচিয়ামোরা ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে এখন চোখে পড়ে কাশফুলের শুভ্র সমারোহ। দূর থেকে মনে হয়, যেন মাটির বুকে নেমে এসেছে সাদা মেঘের চাদর।

বিকেলের দিকে এসব এলাকায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছেন, আবার কেউ মোবাইল ফোন ও ক্যামেরায় বন্দি করছেন শরতের এই ক্ষণিক সৌন্দর্য।

রাজউকের ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় কাশফুলের ছবি তুলছিলেন শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার। তিনি বলেন, “সাদা কাশফুল আর নীল আকাশের দৃশ্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুলগুলো দেখতে খুব ভালো লাগে। তাই এই মুহূর্তগুলো স্মৃতিতে ধরে রাখতে ছবি তুলছি।”

পরিবার নিয়ে সারিঘাট এলাকায় কাশফুল দেখতে এসেছিলেন ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ব্যস্ততার কারণে পরিবারকে নিয়ে খুব একটা ঘুরতে যাওয়া হয় না। তাই স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে কাশফুল দেখতে এসেছি। এখানে এসে অনেক ভালো লাগছে। বাচ্চারাও খুব আনন্দ করছে।”

শুধু সারিঘাট নয়, বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতু পেরিয়ে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের দুই পাশেও দেখা মিলছে বিস্তীর্ণ কাশবনের। রাজউকের ঝিলমিল আবাসিক এলাকার খালি প্লট, হযরতপুরের কালীগঙ্গা নদীর তীর এবং কুচিয়ামোরা এলাকার ধলেশ্বরী নদীর আশপাশেও ফুটে উঠেছে অসংখ্য কাশফুল।

প্রকৃতিবিদদের মতে, কাশফুল শরতের অন্যতম পরিচায়ক। সাধারণত নদীতীর, চরাঞ্চল, জলাভূমি ও পতিত জমিতে কাশগাছ বেশি জন্মে। বর্ষা শেষে শরতের শুরুতেই কাশফুলে সেজে ওঠে প্রকৃতি। আর সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতে নগরজীবনের ব্যস্ততা পেছনে ফেলে মানুষ ছুটে আসে খোলা প্রকৃতির কাছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক বছর আগের তুলনায় কেরানীগঞ্জে কাশবনের পরিমাণ কিছুটা কমলেও এখনও বেশ কয়েকটি এলাকায় শরতের সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিকেলের আলোয় বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুলের দৃশ্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

আগাছা হিসেবে পরিচিত হলেও কাশগাছের রয়েছে নানা ব্যবহার। গ্রামাঞ্চলে শুকনো কাশ দিয়ে ঝাঁটা, ডালি ও মাদুর তৈরি করা হয়। কচি কাশ পশুখাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। লোকজ চিকিৎসায়ও কাশগাছের মূলের কিছু ব্যবহার রয়েছে বলে জানা যায়।

শরতের নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর কাশফুলের মিতালি প্রকৃতিকে এনে দিয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা। আর সেই অপরূপ সৌন্দর্যে এখন সেজেছে পুরো কেরানীগঞ্জ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...