• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা কেরানীগঞ্জে আমান প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিহত ১ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার ‘মজা করে কমেন্ট করেছি’, প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে মন্তব্যে যুবকের ৭ দিনের রিমান্ড সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘মিথ্যা’ দাবি আইনজীবীর ওয়েবসাইট বন্ধ রেখেও সাইবার হামলার শিকার জনতা ব্যাংক কেরানীগঞ্জে যুব মহিলা লীগ নেত্রী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৩ কেরানীগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবনের পাশে অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার ইরানে দ্বিতীয় দফা যুদ্ধের শঙ্কা, বিপদে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬

হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশের বিষয়ে যা বলল পিবিআই

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা নিয়ে ‘চাপে পড়েছে’ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই বলছে, মূলত ওই মামলাটিতে সাহেদ আলী নামে যে ব্যক্তির উপর হামলা ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ বর্ণনা করা হয়েছে সেই ব্যক্তিকেই ‘বাস্তবে খুঁজে পাওয়া যায়নি’। পিবিআই এর গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, মামলাটির ভুক্তভোগীর নাম ঠিকানার সকল তথ্য ভুয়া। হামলার ঘটনার উল্লেখিত সময়ে হামলার কোনো ঘটনাই ঘটেনি। এ ছাড়া বাদী শরিফ (৩৭) তদন্তকারীদের কোনো সহযোগিতা করেননি। মামলাটি তদন্তে ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। তদন্তের বিস্তারিত তথ্য ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছে পিবিআই।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলাসহ সব মামলা আন্তরিকতার সঙ্গে তদন্ত করছে। ইতোমধ্যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় ১৭টি জিআর মামলার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে চার্জশিট ও ৬৭টি সিআর মামলার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি হত্যাচেষ্টা মামলার (ধানমন্ডি থানার মামলা নং-০১, তারিখ-০৩/০৯/২০২৪ সাল) চূড়ান্ত রিপোর্ট আদলতে দাখিল করাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদের শিরোনাম হয়েছে, যা ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
পরিপূর্ণ তথ্য দিয়ে পিবিআই জানায়, গত ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর শরিফ (৩৭) (পিতা-সিরাজ, ৪১/১ ট্যানারি এলাকা, জিগাতলা, হাজারীবাগ, ঢাকা) নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টা মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে ভিকটিম হিসেবে মো. সাহেদ আলী (২৭) (পিতা-মো. কুদ্দুস, ৩৮ ট্যানারি মোড়, হাজারীবগ, ঢাকা)-সহ শুধু নাম ও ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা সিটি কলেজ উল্লেখ করে আহত হিসেবে আরও নয়জনের শুধু নাম উল্লেখ করেন। ঘটনাস্থল ধানমন্ডি ২৭ এর মীনাবাজারের আশপাশের এলাকা এবং ঘটনার সময় ৪ আগস্ট (২০২৪) বেলা ১১টা উল্লেখ করেন।
আসামি হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনের নাম উল্লেখ করেন। বাদী ভিকটিম সাহেদ আলীকে তার ছোট ভাই হিসেবে এজাহারে উল্লেখ করেন (যদিও ঠিকানা ভিন্ন)।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ভিকটিম সাহেদ আলীর সন্ধানে এজাহারের উল্লেখিত ঠিকানায় এবং বাদীর ঠিকানায় গিয়ে জানতে পারেন যে, সাহেদ আলী নামে কেউ ওই ঠিকানায় কখনো বসবাস করেননি এবং ভিকটিম বাদীর ভাই নন। ভিকটিমের এজাহারে উল্লেখিত জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে দেখা যায় যে, জাতীয় পরিচয়পত্রটি ভুয়া এবং এর কোনো মোবাইল নম্বর নিবন্ধিত নেই।
ভিকটিমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সীমান্ত স্কয়ার উল্লেখ করায় সীমান্ত স্কয়ার মার্কেট কমিটির সঙ্গে পত্র প্রেরণের মাধ্যমে এবং সরাসরি যোগাযোগ করেও ওই ভিকটিম সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যান্য ভিকটিমদের তথ্য যাচাই করার জন্য ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা সিটি কলেজের অধ্যক্ষের লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, উল্লিখিত ছাত্র-ছাত্রীদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না থাকায় তাদের তথ্য প্রদান করা সম্ভব হয়নি।
বাদীকে একাধিকবার নোটিশ দিয়ে এবং সরাসরি বাদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে যে কোনো ভিকটিম উপস্থাপন করতে বলা হলেও তিনি কোনো ভিকটিম হাজির করতে পারেননি। তা ছাড়া, একাধিকবার বলা সত্ত্বেও বাদী ভিকটিমদের পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক ঠিকানা প্রদান করেননি। ঘটনাস্থলের সাক্ষ্য প্রমাণেও ওই সময় ওই স্থানে কোনো ঘটনা ঘটেনি মর্মে প্রমাণিত হয়। সার্বিক বিবেচনায় মামলাটির চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করা হয়।
সাহেদ আলীসহ ১০ জনকে হত্যাচেষ্টার এ মামলায় ‘আহতদের খোঁজ না পেয়ে’ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে গত ৫ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পিবিআই। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...