• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা কেরানীগঞ্জে আমান প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিহত ১ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার ‘মজা করে কমেন্ট করেছি’, প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে মন্তব্যে যুবকের ৭ দিনের রিমান্ড সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘মিথ্যা’ দাবি আইনজীবীর ওয়েবসাইট বন্ধ রেখেও সাইবার হামলার শিকার জনতা ব্যাংক কেরানীগঞ্জে যুব মহিলা লীগ নেত্রী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৩ কেরানীগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবনের পাশে অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার ইরানে দ্বিতীয় দফা যুদ্ধের শঙ্কা, বিপদে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬

অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক, অচল চট্টগ্রাম বন্দর

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে বন্ধ হয়ে গেছে সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা ইস্যুতে চলমান লাগাতার কর্মবিরতি ঘিরে এ অচলাবস্থা তৈরি হয়।
সবশেষ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
এদিন সকাল থেকে শুরু হওয়া কর্মবিরতিতে চট্টগ্রাম বন্দর বহির্নোঙর থেকে বন্দরের জেটিতে জাহাজ আসা-যাওয়া বন্ধ থাকে। এতে বন্দর জেটিতে থাকা জাহাজ থেকে পণ্য খালাসও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে চট্টগ্রাম বন্দর ও আশপাশে গড়ে ওঠা ১৯ প্রাইভেট আইসিডিতে জমেছে রফতানি কনটেইনারের স্তূপ।
বন্দর সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদের ডাকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করা হয়। তবে আজ বুধবার থেকে শুরু হয় অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য ওঠানামা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। পণ্য ওঠানামায় জড়িত শ্রমিক-কর্মচারীরা কেউ কাজে যোগ দেননি।
কর্মবিরতির কারণে জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি), নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ আছে। বন্ধ আছে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানামা। খালাস বন্ধ থাকায় বন্দর জেটি ও বহির্নোঙরে জাহাজের অপেক্ষার সময় দীর্ঘ হচ্ছে।
এদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, নির্ধারিত সময়ে পণ্য খালাস করতে না পারায় প্রতিটি জাহাজকে প্রতিদিনের জন্য বিপুল ডেমারেজ (ক্ষতিপূরণ) গুনতে হচ্ছে। পাশাপাশি বাজারে পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর আগেও একই ইস্যুতে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে দুদিন ধাপে ধাপে কর্মবিরতি পালন করা হয়। কর্মবিরতি পালন করে বিএনপিপন্থী দুই সংগঠন, চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী সাবেক সিবিএ। তবে ২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালিত হয়। এদিন অধিকাংশ শ্রমিক-কর্মচারী কাজে যোগ দেননি। এতে প্রায় সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়।
এ ঘটনায় ইতোমধ্যে আন্দোলনে যুক্ত ১৬ জনকে বদলি করা হলেও তারা কাজে যোগ দেয়নি। বদলি করা কর্মীদের মধ্যে বিএনপিপন্থী দুই শ্রমিক নেতাও আছেন। পায়রা ও মোংলা বন্দরে তাদের বদলি করা হয়।
এ ব্যাপারে চলমান আন্দোলনে যুক্ত শ্রমিক নেতা ইব্রাহিম খোকন বলেন, আমরা বন্দরের স্বার্থ রক্ষার জন্য আন্দোলন করছি। আমাদের দাবি অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বাতিল না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার কর্মসূচি চলবে।
আমদানিকারকরা জানান, বিদেশি বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা জাহাজগুলোর পণ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খালাস শেষ করতে হয়। নির্ধারিত সময় পার হলেই প্রতিদিনের জন্য ১০ হাজার মার্কিন ডলার করে ডেমারেজ গুনতে হবে আমদানিকারককে।
তারা আরও জানান, এভাবে জাহাজ খালাস ছাড়া অবস্থান করলে বিশ্বে চট্টগ্রাম বন্দর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হবে। বর্তমানে বন্দরের উৎপাদনশীলতা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...