• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা কেরানীগঞ্জে আমান প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিহত ১ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার ‘মজা করে কমেন্ট করেছি’, প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে মন্তব্যে যুবকের ৭ দিনের রিমান্ড সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘মিথ্যা’ দাবি আইনজীবীর ওয়েবসাইট বন্ধ রেখেও সাইবার হামলার শিকার জনতা ব্যাংক কেরানীগঞ্জে যুব মহিলা লীগ নেত্রী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৩ কেরানীগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবনের পাশে অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার ইরানে দ্বিতীয় দফা যুদ্ধের শঙ্কা, বিপদে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬

বিদেশে যেতে বাংলাদেশিদের ‘ভিসা সংকট’ কাটছে না কেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

শিক্ষার্থী ভিসায় অষ্ট্রেলিয়া যেতে ইচ্ছুক ঝিনাইদহের বাসিন্দা মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম জানান, সব ধরনের কাগজপত্র যাচাই করেই ভিসার জন্য জমা দিয়েছিলাম, কিন্তু আমার আবেদন রিজেক্ট (বাতিল করা) হয়েছে। কেন এমন হলো এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যাও আমি পাইনি।
দেশটির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েও শেষমেষ ভিসা জটিলতায় যেতে পারেননি তিনি।
ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা মোহাইমিনুল খান ও তার পরিবার অনেকদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ভিসার জন্য চেষ্টা করছেন। তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভিসা নিয়ে জটিলতা বেড়েছে। দেশটির নতুন ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশের নাম যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে।
উচ্চশিক্ষা কিংবা কর্মী ভিসায় দেশের বাইরে যেতে ইচ্ছুক এবং ভিসা প্রসেসিংয়ের কাজে যুক্ত এমন আরও কয়েকজন সঙ্গে কথা বলে বাংলাদেশিদের ভিসা না হওয়ার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা গেছে। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদসে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
প্রথমত, ভিসা আবেদনের সময় সঠিক নথি জমা না দিয়ে ভুয়া কাগজপত্রের ব্যবহার হচ্ছে ব্যাপকভাবে। অনেকেরই শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতার সনদ, প্রশিক্ষণ সনদ এবং ব্যাংক স্টেটমেন্টের ভুয়া কাগজ জমা দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, ভ্রমণ ভিসায় কোনো দেশে গিয়ে থেকে যাওয়া, কিংবা একদেশে গিয়ে অন্য দেশে অবৈধভাবে চলে যাওয়ার প্রবণতাও অনেক। এর ফলে একদিকে যেমন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজের ক্ষতি করছেন, তেমনি পরবর্তীতে সৎ উপায়ে যেতে চাওয়া অন্যদেরও ভিসা না পাওয়ার কারণ হচ্ছেন তিনি।
তৃতীয়ত, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সুশাসন প্রেক্ষাপট।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাশাপাশি দুই দেশের সরকারের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। একজন ব্যক্তিকে ভিসা দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট দেশের রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেয় অন্য দেশ।
একদিকে অভ্যন্তরীণ নীতির কারণে ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলো ভিসা দেওয়ার হার যেমন কমিয়েছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশের শ্রমবাজারও বাংলাদেশিদের জন্য কার্যত বন্ধ।
অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও সিঙ্গাপুরে জনশক্তি ও শিক্ষার্থী ভিসায় কিছু মানুষ যেতে পারলেও সংখ্যা খুবই নগণ্য।
থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের ভিসাও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।
এছাড়া দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়ার হার কমিয়েছে পার্শবর্তী দেশ ভারতও।
এমন পরিস্থিতিতে মেয়াদউত্তির্ণ নথি কিংবা অবৈধভাবে থেকে যাওয়া বাংলাদেশিদের ডিপোর্ট করা বা ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও বেড়েছে।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন সেন্টারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বিভিন্ন দেশ থেকে গড়ে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশিকে নানা কারণে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। কেবল ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে গত আট বছরে অন্তত চার হাজার বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মধ্যে ‘অ্যান্টি ইমিগ্র্যান্ট’ সেন্টিমেন্ট বা অভিবাসনবিরোধী মানসিকতা বাড়তে থাকায় অনেক দেশই একদিকে যেমন বৈধভাবে মানুষ নিচ্ছে না আবার অনেককে ফেরতও পাঠাচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকেও গত এক বছরে অন্তত তিনশ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়।
জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কেবল সৌদি আরবে কিছু মানুষ যেতে পারছেন। এছাড়া বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়াসহ সহ অনেক দেশই বাংলাদেশ থেকে শ্রমশক্তি আমদানি বন্ধ রেখেছে।
শিক্ষার্থী কিংবা পর্যটন ভিসার ক্ষেত্রে সমস্যা আরও জটিল। এই খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো দেশে গিয়ে অবৈধভাবে থেকে যাওয়া, ভুয়া সার্টিফিকেট, তথ্য জালিয়াতিসহ নানা কারণে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া অনেক বেশি জটিল করেছে বিভিন্ন দেশ।
পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ইরাম খান বলছেন, পর্যটনের জন্য নেপাল এবং শ্রীলঙ্কার পাশাপাশি বর্তমানে চীনে কিছু মানুষ যাচ্ছেন।
তিনি মনে করেন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঠিক না হলে শিগগিরই এই দেশগুলোও বাংলাদেশের জন্য ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া কঠিন করতে পারে। তবে নির্বাচনের পর পরিস্থিতি পরিবর্তন হওয়ার আশা করছি আমরা।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন এন্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম এর সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলছেন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অনেক নাগরিককে ফেরত পাঠাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে গিয়ে আবেদন করা আশ্রয়ের আবেদনও সম্প্রতি অনেক বেশি বাতিল হচ্ছে।
হাসান জানান, দালাল বা মধ্যসত্ত্বভোগীরা যে ধরনের কাগজ তৈরি করে দেয় বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ তার ওপরই নির্ভর করে, এসব কারণেই বিভিন্ন দেশের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতায় পড়েন বাংলাদেশিরা।
ভিসা পাওয়ার জন্য ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট, জাল অভিজ্ঞতা সনদ বা শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জমা দেওয়া, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন ও অবৈধ অবস্থান এমন নানা বিষয় একটি দেশের নাগরিককে ভিসা না দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশের বেলায় এখানেই নেতিবাচক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
তিনি বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলছেন, এটা দেশের দায়। আমাদের পুরো সিস্টেমের দায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও না, আমার ব্যক্তিগতভাবেও না। কারণ, পৃথিবীজুড়ে প্রচুর সুযোগ আছে। আমরা সেটা ব্যবহার করতে পারছি না নিজেদের দোষে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলছেন, ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে যেমন ব্যক্তি দায়ও রয়েছে, তেমনি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায়ও গলদ রয়েছে।
তিনি বলেন, কেউ ভুল তথ্য দিচ্ছেন, আবার অনেকে ওই দেশে গিয়ে এমন কিছু করছেন যাতে সংশ্লিষ্ট দেশের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। ফলে পরবর্তীতে তারাও বাংলাদেশের কাউকে ভিসা দিতে দুইবার ভাবছে।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন এন্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম এর সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার প্রবণতা বাংলাদেশি পাসপোর্টের ‘রিস্ক প্রোফাইল’ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ইউরোপের অনেক দেশ বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি ‘ব্যাকগ্রাউন্ড চেক’ এবং বায়োমেট্রিক যাচাই কঠোর করেছে। সূত্র : বিবিসি বাংলা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...