মাত্র ৩২ হাজার টাকা বেতনের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। অথচ বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, সরকারি কোয়ার্টার ভাড়া, বিদেশ ভ্রমণসহ বিপুল সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মাস্টার রোলের অফিস সহকারী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নিয়ম ভঙ্গ করে একাধিকবার বিদেশ সফর করেছেন তিনি। সরকারি কর্মচারীদের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে দাপ্তরিক অনুমতি বাধ্যতামূলক হলেও, গত ২০ আগস্ট হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে অফিস ত্যাগের পর সহকর্মী তাজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে নেপাল ভ্রমণে যান বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, তার নামে বরাদ্দকৃত সরকারি কোয়ার্টার অবৈধভাবে ভাড়া দিয়ে নিজে রাজধানীর রূপনগরের ৪০ নম্বর রোডে ১২২০ স্কয়ার ফুটের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন। ফ্ল্যাটটি তার স্ত্রী মোর্শেদা বেগমের নামে কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফ্ল্যাটটিতে পার্কিং সুবিধাসহ পুরো একটি ফ্লোর নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। যদিও তার স্ত্রী একজন গৃহিণী।
এদিকে অভিযুক্ত শহীদুল্লাহর সরকারি কোয়ার্টার, ব্যক্তিগত ঠিকানা ও অফিসে গিয়েও তার সন্ধান মেলেনি। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরাসরি যোগাযোগ এড়িয়ে চলেন এবং সুফিয়া নামের এক সহকর্মীর মাধ্যমে দাপ্তরিক যোগাযোগ রক্ষা করেন।
এ বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগগুলো আগে তাদের নজরে আসেনি। তবে তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানোর কথাও ভাবা হচ্ছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারীর এত বিপুল সম্পদের উৎস ও বিদেশ ভ্রমণের বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে।