কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে গ্যাসলাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপি নেতা ইমান উল্লাহ মাস্তানের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (৬ এপ্রিল) ঢাকা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্তের স্বার্থে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ তার বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ইমান উল্লাহ মাস্তান দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রথমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে রিমান্ড শুনানির জন্য আদালতে আবেদন করা হলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ছয়জনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। শনিবার রাতে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে স্বজনরা মরদেহগুলো শনাক্ত করেন।
শনাক্ত হওয়া তিনজন হলেন- মঞ্জু বেগম (৩৬), শাহীনুর বেগম (৩৫) ও মীম আক্তার (১৬)। স্বজনরা জানান, হাতে থাকা চাবির গুচ্ছ ও চুলের ক্লিপসহ ব্যক্তিগত আলামত দেখে মরদেহগুলো শনাক্ত করা হয়। নিহতদের পরিবারের আহাজারিতে মর্গ এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
নিহতদের পরিবার সূত্রে আরও জানা যায়, মঞ্জু বেগম পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাসিন্দা এবং কারখানার পাশেই বসবাস করতেন।
তাঁর ছেলে সাব্বির হোসেন বলেন, “মায়ের হাতে থাকা চাবির গুচ্ছ দেখে লাশ শনাক্ত করেছি। আমরা এই মৃত্যুর বিচার চাই। শাহীনুর বেগমের বাড়ি মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায়। তাঁর বাবা আজিজ কাজী জানান, “চুলের খোঁপার ক্লিপ দেখে মেয়েকে চিনতে পেরেছি।”
নিহত মীম আক্তারের বাড়ি বরিশালের মুলাদী উপজেলায়। তাঁর স্বামী বর্তমানে কারাগারে থাকায় তিন বছরের শিশুসন্তানটি এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছে। এ ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
তাদের অভিযোগ, অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানার প্রধান ফটক তালাবদ্ধ ছিল, ফলে শ্রমিকরা বের হতে পারেননি। তারা এ ঘটনাকে ‘দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যা’ উল্লেখ করে দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে এবং ইমান উল্লাহ মাস্তান নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।