ঢাকার কেরানীগঞ্জের খোলামোড়া সংলগ্ন জিয়ানগর এলাকায় লোকচক্ষুর আড়ালে গড়ে ওঠা একটি অবৈধ মবিল কারখানাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই কারখানায় পোড়া মবিল প্রক্রিয়াজাত করে ভেজাল লুব্রিকেন্ট তৈরি করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কথিত প্রভাবশালী খোকন নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে পরিচালিত এই কারখানাটির কোনো সরকারি অনুমোদন কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। অভিযোগ রয়েছে, কারখানার বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশ্রিত বর্জ্য ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে নদীর পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কারখানার ভেতরে রবিউল নামের এক কর্মচারীকে প্রকাশ্যে মাদক সেবন করতে দেখা যায় বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এতে কারখানাটি নিয়ে আরও উদ্বেগ ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, গণমাধ্যমকর্মীরা খোকনের বক্তব্য জানতে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং সংবাদ প্রকাশ করলে সাংবাদিকের ওপর ক্ষতিকর পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে জিয়ানগর ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের দাবি, দ্রুত অবৈধ কারখানাটি বন্ধ করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা, যাতে কেরানীগঞ্জের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা করা সম্ভব হয়।