• শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ন

কেরানীগঞ্জে বাসস্ট্যান্ডের চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৮

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি: 
প্রকাশিত : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৬ মে) বিকেলে সংঘটিত এ ঘটনায় অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে ৪–৫টি বোমা বিস্ফোরণেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে কোন পক্ষ এসব বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। বুধবার বিকেলে সেই বিরোধই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে মো. মালেক গাজী (৫৩), মো. শাহীন মিয়া (৩৪), মো. সাজ্জাদ হোসেন (২২) ও মাহমুদ হাসান (২৭)সহ অন্তত ৮ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহীন মিয়ার পিঠে ছুরিকাঘাত এবং সাজ্জাদ হোসেনের চোখে আঘাত লাগে। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির কেউ যদি অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাকে সর্বোচ্চ আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, “যারা চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে এখানে দখলদারিত্ব করতে আসে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ওসিকে বলা হয়েছে। অপরাধী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।”

নিপুণ রায় বলেন, কেরানীগঞ্জে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান থাকবে না। তিনি জানান, পুলিশকে মামলা গ্রহণ করে রিফাত মোল্লাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, রিফাত মোল্লা অভিযোগ করেন, তার লোকজনের ওপর হামলা হয়েছে এবং তিনি থানায় অভিযোগ করতে গেলে তার ওপরও হামলা চালানো হয়। তিনি দাবি করেন, ঘটনাটির পেছনে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ছাত্রদল নেতার ইন্ধন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিপুণ রায় চৌধুরী তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পুলিশকে চাপ সৃষ্টি করছেন।

রিফাত মোল্লা বলেন, “আমার বাবা মরহুম লুৎফর রহমান মোল্লা আজীবন বিএনপি করেছেন। আমিও একাধিক মামলায় জেল খেটেছি। এখন আমাকে বলা হচ্ছে আমি বিএনপির কেউ নই—এটা প্রশ্নবিদ্ধ।”

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সংঘর্ষের সময় হামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, “রিফাত মোল্লা থানায় অভিযোগ করতে এলে তার ওপর হামলা হয়েছে। ঘটনাস্থলে ৪–৫টি বোমা বিস্ফোরণের তথ্য পাওয়া গেছে, তবে কারা ঘটিয়েছে তা তদন্তাধীন।”

পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...