রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়ায় বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-২ সার্কেলে ঘুষ ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম এ অভিযান পরিচালনা করে।
দুদকের জনসংযোগ দপ্তরের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদক সূত্র জানায়, বিআরটিএর বিভিন্ন সেবা ঘিরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ওই সিন্ডিকেট রুট পারমিট, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, মালিকানা পরিবর্তন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা নিয়ন্ত্রণ করছে।
সেবাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুস আদায় করে মাসে প্রায় এক থেকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত অবৈধভাবে আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। এ অনিয়মে বিআরটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস, মালিকানা পরিবর্তন ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে সেবার ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত ফির বাইরে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। দালালদের মাধ্যমে এসব অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে বিআরটিএ অফিসের সামনের প্রায় ৪৫টি অবৈধ দোকান ও ট্রাকস্ট্যান্ড থেকেও মাসিক ভাড়া ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এসব অর্থের একটি অংশ সিন্ডিকেটের সদস্যদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয় বলে দুদকের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।
দুদক সূত্র আরও জানায়, বিআরটিএর একজন সাবেক কর্মচারীর বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তিনি অফিসের একটি কক্ষ দখলে রেখে দালালচক্র নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই সাবেক কর্মচারী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতেই দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।