কুমিল্লা সদর উপজেলায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে দ্রুতগামী ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় চট্টগ্রামের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও দায় নিরূপণে তদন্ত কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
ট্রেনটিকে উদ্ধার করতে আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেলওয়ে বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে মোস্তাফিজুর রহমান ছয় সদস্যের দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। একটি কমিটিতে ডিটিও, ডেন-১, ডিএসটিই, ডিএমই (লোকো), ডিএমও এবং আরএনবি কমান্ড্যান্টকে সদস্য করা হয়েছে।
এর আগে রোববার (২২ মার্চ) ভোর রাত ৪টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ১২ নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, দুজন শিশু ও তিনজন নারী রয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. নিশাত সুলতানা। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ১৮ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আরও ছয়জন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকার রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয় দ্রুতগামী ট্রেন। এতে বাসটি ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে আটকে যায় এবং ট্রেনটি থামতে না পেরে বাসটিকে সামনে নিয়েই বেশ কিছু দূর টেনে নিয়ে যায়। পরে জাঙ্গালিয়া স্টেশন এলাকায় গিয়ে ট্রেনটি থামে। জানা গেছে, বাসে মোট ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন।