• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা কেরানীগঞ্জে আমান প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিহত ১ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার ‘মজা করে কমেন্ট করেছি’, প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে মন্তব্যে যুবকের ৭ দিনের রিমান্ড সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘মিথ্যা’ দাবি আইনজীবীর ওয়েবসাইট বন্ধ রেখেও সাইবার হামলার শিকার জনতা ব্যাংক কেরানীগঞ্জে যুব মহিলা লীগ নেত্রী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৩ কেরানীগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবনের পাশে অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার ইরানে দ্বিতীয় দফা যুদ্ধের শঙ্কা, বিপদে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬

না থেকেও আলোচনায় বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বিশ্বকাপে খেলার সব ধরনের প্রস্তুতি ছিল বাংলাদেশের। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বছরের প্রান্তে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগও (বিপিএল) আয়োজন করেছিল বিসিবি। ২০২৫ সালজুড়ে বিশ্বকাপ মাথায় রেখে সাদা পোশাকের টেস্ট ক্রিকেটের পাশাপাশি রঙিন পোশাকের ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটও সমানতালে খেলেছেন লিটন, শান্ত, মোস্তাফিজ, তাসকিনরা। কিন্তু ভারতের নেওয়া এক হঠকারী সিদ্ধান্ত সব পরিকল্পনায় পানি ঢেলে দেয়। ২০২৬ সালের শুরুতেই বাংলাদেশের ক্রিকেট বাঁকবদলের এক নতুন ইতিহাসে পা রাখে। বিশ্বক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি আর ক্রিকেটের মোড়লখ্যাত ভারতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেদের আত্মসম্মান আর অস্তিত্বকে জানান দেয়। স্পষ্ট বার্তা দেয় ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার।

ক্রিকেট মাঠে রাজনীতি নতুন ঘটনা নয়, কিংবা কোনো দেশের বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্তও। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান বছরের পর বছর, যুগ-যুগ ধরে খেলার মাঠে রাজনীতিকে পুষে চলেছে। যার প্রভাব আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া আইসিসি মেনস টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও বলবৎ। তবে বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞতা প্রথম। যদিও বাংলাদেশ রাজনৈতিক কারণে নয়, নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতের মাটিতে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। আইসিসির কাছে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানানোর পরও তাতে সাড়া না মেলায় অগত্যা বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয় লাল-সবুজের দল।

দীর্ঘ ২৭ বছর পর বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ। ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জিতে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে টাইগাররা। এরপর ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নেয়। ওই আসরের পর আর পেছন ফিরে তাকায়নি। হোক ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি প্রতিটি আসরেই স্বপ্রতিভ উপস্থিতি ছিল বাংলাদেশের। ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে, এর পরের আসর অর্থাৎ ২০১১ বিশ্বকাপ ভারত-শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথভাবে নিজেদের মাটিতে আয়োজন করে তো বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ২০১৫ অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপ, ২০১৯ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ এবং ২০২৩ সালে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলে টাইগাররা।

৫০ ওভারের বিশ্বকাপের প্রথম ছয় আসরে (১৯৭৫-১৯৯৬ সাল পর্যন্ত) অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে না পারলেও ছোট ফরম্যাটের জনপ্রিয় ভার্সন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরু থেকেই খেলছে বাংলাদেশ। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটি থেকে শুরু হয় এই ফরম্যাটের যাত্রা। প্রথম আসরে শুধু অংশই নেয়নি, সুপার এইটে উঠে সবার প্রশংসা কুড়ায় টাইগাররা। এরপর ধারাবাহিকভাবে আরও আটটি আসরে অংশ নেয়। যেখানে ভারতের মাটিতেও খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর আগে কখনো নিরাপত্তা ইস্যু বাংলাদেশের ক্রিকেটযাত্রায় বাধার দেয়াল তৈরি করলেও ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার মুখে ফেলে।

বাংলাদেশ শুধু নিজেদের প্রথম আসরেই নয়, সবশেষ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে হওয়া ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দারুণ পারফর্ম করে। সেখানেও সুপার এইটে নাম লেখায়। ২০২৬ বিশ্বকাপে ॥থাকলে হয়তো আরও ভালো করার সুযোগ ছিল। লিটন, মোস্তাফিজদের নিয়ে গড়া দলটির সেই সাম॥র্থ্যও রয়েছে। তবে সুযোগ হলো না বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণের। ঠুঁটো জগন্নাথ আইসিসি আর ভারতের একরোখা সিদ্ধান্তের বলি হয়ে এবারের আসরে দর্শক হয়েই থাকতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। তবে বিশ্বকাপে না খেলেও ভালোবাসা আর সমর্থনের কোনো কমতি নেই। বিশ্বসেরা তারকাদের অনেকেই বাংলাদেশের সমর্থনে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছেন, নিয়মিত জানিয়ে যাচ্ছেন। পাকিস্তান তো বিপদে বন্ধুর পরিচয় দিয়ে আইসিসি ও ভারতের বিপক্ষে গিয়ে সরাসরি বাংলাদেশের পক্ষ নিয়েছে।

বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশ যে সমীহজাগানিয়া দেশ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে পেরেছে- এটাই প্রহসনের বিশ্বকাপে না খেলার সবচেয়ে বড় পুরস্কার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...