বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এখন মিরোস্লাভ ক্লোসের পাশে লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গেলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। এত দিন ১৬ গোল নিয়ে এককভাবে শীর্ষে ছিলেন জার্মানির ক্লোসে। এখন সেই রেকর্ডে ভাগ বসালেন মেসি।
কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে শুরু থেকেই আলোচনায় ছিলেন মেসি। ম্যাচটি ছিল র ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। শুরুতে র একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এরপর ১৭ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল করেন তিনি। ৬০ মিনিটে আলজেরিয়া গোলরক্ষক লুকা জিদানের ভুল কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় গোল। ৭৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নিজের চেনা শটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসি।
এই তিন গোলেই বদলে যায় বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকা। টুর্নামেন্টের আগে মেসির গোল ছিল ১৩। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পর তিনি ছাড়িয়ে গেছেন রোনালদো নাজারিও, গার্ড মুলার ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে। উঠে গেছেন সরাসরি ক্লোসের পাশে।
বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতারা
১. মিরোস্লাভ ক্লোসে, জার্মানি — ১৬ গোল
১. লিওনেল মেসি, আর্জেন্টিনা — ১৬ গোল
৩. রোনালদো নাজারিও, ব্রাজিল — ১৫ গোল
৪. গার্ড মুলার, জার্মানি — ১৪ গোল
৪. কিলিয়ান এমবাপ্পে, ফ্রান্স — ১৪ গোল
৬. জুস্ত ফঁতেন, ফ্রান্স — ১৩ গোল
ক্লোসে চারটি বিশ্বকাপে ১৬ গোল করেছিলেন। ২০০২ সালে ৫ গোল, ২০০৬ সালে ৫ গোল, ২০১০ সালে ৪ গোল এবং ২০১৪ সালে ২ গোল। ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির শিরোপা জয়ের পথেই তিনি ব্রাজিলের রোনালদোকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন।

মেসির পথটা আলাদা। ২০০৬ বিশ্বকাপে প্রথম গোল করেছিলেন তিনি। ২০১০ বিশ্বকাপে গোল পাননি। এরপর ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপে গোল করেছেন। অর্থাৎ পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করা বিরল ফুটবলারদের তালিকায় এখন তিনি আরও উজ্জ্বল নাম। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করেছেন।
এই দৌড়ে এখন আরেক বড় নাম কিলিয়ান এমবাপ্পে। সেনেগালের বিপক্ষে ফ্রান্সের ৩-১ জয়ে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৪-তে নিয়েছেন তিনি। ২৭ বছর বয়সী ফরাসি তারকা এখন মেসি ও ক্লোসের চেয়ে মাত্র দুই গোল পেছনে।
তবে আপাতত রাতটা মেসির। ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ, বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক, পাঁচ বিশ্বকাপে গোল এবং ক্লোসের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে ভাগ—সব মিলিয়ে আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচ র কিংবদন্তি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ঐতিহাসিক রাতগুলোর একটিতে জায়গা করে নিল।