লিওনেল মেসির রাত ছিল এটি। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০০তম ম্যাচ, ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক এবং মিরোস্লাভ ক্লোসের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ছোঁয়া—সব মিলিয়ে কানসাসে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিখলেন আরেকটি ঐতিহাসিক অধ্যায়। বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে দাপটের সঙ্গে।
কিন্তু এমন এক ঝলমলে রাতেও থেকে গেল একটি বিতর্ক। প্রশ্ন উঠল, মেসি কি লাল কার্ড দেখতে পারতেন?
ঘটনাটি মেসির প্রথম ও দ্বিতীয় গোলের মাঝামাঝি সময়ে। আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মাণ্ডি বলের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন। সেই সময় পেছন দিক থেকে চ্যালেঞ্জে যান মেসি। ম্যাচ রিপোর্টে বলা হয়েছে, তার বুটের স্টাড লাগে মাণ্ডির কাফের পেছনের দিকে। পোলিশ রেফারি সিমন মারচিনিয়াক ফাউল দিলেও কোনো কার্ড দেখাননি।
এখানেই বিতর্কের শুরু। কারণ ট্যাকলটির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। মাণ্ডি তখন দ্রুত কোনো বিপজ্জনক আক্রমণে যাচ্ছিলেন না। মেসির অবস্থান থেকেও বল কেড়ে নেওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি ছিল না। সেই অবস্থায় পেছন থেকে এমন চ্যালেঞ্জ অন্তত হলুদ কার্ডের দাবি রাখে—এমন মত অনেকের।
লাল কার্ডের প্রশ্নও একেবারে অমূলক নয়। ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ট্যাকল যদি প্রতিপক্ষের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে বা অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের পর্যায়ে পড়ে, তাহলে সেটি সিরিয়াস ফাউল হিসেবে লাল কার্ডযোগ্য হতে পারে। মেসির ট্যাকলে সেই মাত্রা ছিল কি না, সেটিই বিতর্কের জায়গা।

রেফারি অবশ্য ঘটনাটিকে কার্ডযোগ্য মনে করেননি। ভিএআর থেকেও মাঠে গিয়ে দেখার কোনো পরামর্শ আসেনি। এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—ভিএআর সরাসরি লাল কার্ডের সম্ভাব্য ঘটনায় হস্তক্ষেপ করতে পারে, কিন্তু সাধারণ হলুদ কার্ডের সিদ্ধান্তে নয়। তাই ভিডিও সহকারী রেফারির দৃষ্টিতে ঘটনাটি স্পষ্ট লাল কার্ডের পর্যায়ে না গেলে মাঠের সিদ্ধান্তই থেকে যায়।
আলজেরিয়া শিবিরের দৃষ্টিতে সিদ্ধান্তটি হতাশাজনক হওয়ারই কথা। কারণ মেসি যদি তখন অন্তত হলুদ কার্ডও দেখতেন, ম্যাচের বাকি অংশে তার খেলার ধরন বদলাতে হতো। আর যদি লাল কার্ড দেখতেন, ম্যাচের পুরো গল্পই বদলে যেতে পারত।
তবে ঘটনাটি আর্জেন্টিনার জয়কে ছাপিয়ে যায়নি। মেসি ১৭ মিনিটে প্রথম গোল করেন, ৬০ মিনিটে গোলরক্ষক লুকা জিদানের ভুল কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় গোল করেন এবং ৭৬ মিনিটে নিজের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। সেই গোলেই বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৬, ক্লোসের সমান।
তবু বিতর্ক থেকে যাচ্ছে। কারণ মেসির মতো কিংবদন্তি ফুটবলারের ক্ষেত্রেও নিয়মের প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। বড় খেলোয়াড়, বড় মঞ্চ, বড় মুহূর্ত এসব কখনো কখনো রেফারির সিদ্ধান্তকে আরও বেশি আলোচনায় নিয়ে আসে।