• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা কেরানীগঞ্জে আমান প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিহত ১ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার ‘মজা করে কমেন্ট করেছি’, প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে মন্তব্যে যুবকের ৭ দিনের রিমান্ড সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘মিথ্যা’ দাবি আইনজীবীর ওয়েবসাইট বন্ধ রেখেও সাইবার হামলার শিকার জনতা ব্যাংক কেরানীগঞ্জে যুব মহিলা লীগ নেত্রী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৩ কেরানীগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবনের পাশে অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার ইরানে দ্বিতীয় দফা যুদ্ধের শঙ্কা, বিপদে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬

মেয়ে হত্যার বিচার দাবিতে মা

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

ময়মনসিংহে মেয়ে আমেনা আক্তার নওরীন হত্যার জন্য জামাতা লুৎফুল্লাহির কবির আশিককে দায়ী করে ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মা সালমা আক্তার প্রীতি।
সোমবার (১৮ মে) সকালে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি হত্যাকারী হিসেবে আশিকের ফাঁসি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নিহতের বাবা মো. নূর হোসেন, খালা নুসরাত জাহান শাওন ও খালু সোহাগ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মা সালমা আক্তার প্রীতি জানান, ২০২২ সালে নওরীনের সঙ্গে কুষ্টিয়ার নামাপাড়া এলাকার নূর মোহাম্মদের ছেলে আশিকের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে মাঝেমধ্যে দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকত। পরবর্তীতে আশিক চাকরির সুবাদে ঢাকার উত্তরার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে নওরীন ‘শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি’-তে পড়াশোনা শুরু করেন।
শুরুতে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও কিছুদিন পর আশিকের আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন নওরীন। একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, আশিক তার অফিসের সহকর্মী ঊর্মি নামের এক তরুণীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। নওরীন এ নিয়ে ঊর্মির সঙ্গে কথা বলে তাদের সংসার থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করলেও কোনো কাজ হয়নি। এমনকি আশিকের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো নিজেদের ছেলেকে প্রশ্রয় দেয়। এর জের ধরে নওরীনের ওপর প্রায় প্রতিদিনই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো।
নির্যাতনের মুখে এক পর্যায়ে নওরীনকে ময়মনসিংহে নিয়ে আসা হয়। তবে দুদিন পর আশিক নিজের ভুল স্বীকার করে এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ করবে না বলে আশ্বাস দিয়ে নওরীনকে আবার ঢাকায় নিয়ে যায়।
ঢাকায় যাওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ পর, গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় আশিক ফোন করে জানায় যে, নওরীন ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত উত্তরার বাসায় গিয়ে নওরীনের মরদেহ ঘরের বিছানায় শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পান।
নওরীনের মা অভিযোগ করেন, মেয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। কিন্তু ঘটনাস্থলে আত্মহত্যার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ফ্যানে কোনো দাগ বা রশি ঝোলার চিহ্নও ছিল না। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, পরিকল্পিতভাবে নওরীনকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনার রাতে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাসহ উপস্থিত অনেকেই প্রাথমিকভাবে এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে মন্তব্য করেছিলেন।
নিহতের পরিবার জানায়, ঘটনার পরদিন তারা উত্তরা তুরাগ থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ প্রথমে অপরাগতা প্রকাশ করে। পরবর্তীতে দীর্ঘ অনুরোধের পর দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় (আত্মহত্যায় প্ররোচনা) মামলা করা হয়। গত ২৪ এপ্রিল রাতেই আশিককে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হলেও ১৯ দিন পরে সে জামিনে মুক্ত হয়ে আসেন।
জামিনে আসার পর থেকে আশিক ও তার পরিবার ভুক্তভোগী পরিবারটিকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
নওরীনের রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে মূল অপরাধী আশিকসহ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবি জানিয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মা সালমা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...