রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে রমজান ঘিরে হঠাৎ করেই বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। শশা, বেগুন ও কাঁচামরিচ কেজিতে ৩০-৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, রমজানের প্রধান ইফতারি খেজুরের দামও বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে দাম ১০০-১২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) কারওয়ান বাজার, শাহজাদপুর, বাড্ডা ও হাতিরপুলের বাজার ঘুরে দেখা যায়— শশা বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকা (দুই দিন আগে ছিল ৭০ টাকা), বেগুন মানভেদে ১০০-১৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৪০-১৮০ টাকা, প্রতি হালি লেবু ৮০-১২০ টাকা।
অন্যান্য সবজির মধ্যে আলু ২০ টাকা, টমেটো ও মিষ্টি কুমড়া ৪০-৬০ টাকা, করলা ১২০-১৬০ টাকা, ওলকপি ৫০-৮০ টাকা, গাজর ৪০-৬০ টাকা এবং লাউ প্রতিটি ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানের বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন। শাহজাদপুর বাজারের ক্রেতা মো. শাহ আলম বলেন, রমজানে মানুষ বেগুনির জন্য বেগুন কিনবে— এটা জেনেই দাম বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে লেবু বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম বাড়ছে।
রমজানের প্রধান ইফতারি খেজুরের দামও বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। জাহিদি/বস্তা খেজুর ২৫০-২৮০ টাকা (এক সপ্তাহ আগে ১৭০ টাকা) ভালো মানের জাহিদি ৩৫০-৫০০ টাকা, দাবাস ৫৫০-৬৫০ টাকা, কালমি ৭০০-৯০০ টাকা, সুক্কারি ৮০০-৯৫০ টাকা, মাবরুম ৮৫০-১২০০ টাকা, মেডজুল ১২০০-১৮০০ টাকা।
খেজুর আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে নামানো হলেও বাজারে দাম কমেনি। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাড়তি চাহিদা ও গুজবকে কেন্দ্র করে কিছু ব্যবসায়ী মজুত থাকা সত্ত্বেও দাম বাড়াচ্ছেন। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টন খেজুরের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহে ঘাটতি নেই।
রমজানের প্রথম দিন থেকেই বাজারে ক্রেতার ভিড় বাড়লেও দাম কমার কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি। তবে ব্রয়লার মুরগি ও কিছু মাছের দাম সামান্য কমেছে। কয়েকদিন পর চাহিদা কমলে কিছু পণ্যের দাম কমতে পারে—তবে আপাতত বাড়তি খরচেই ইফতার সাজাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।