• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা কেরানীগঞ্জে আমান প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিহত ১ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার ‘মজা করে কমেন্ট করেছি’, প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে মন্তব্যে যুবকের ৭ দিনের রিমান্ড সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘মিথ্যা’ দাবি আইনজীবীর ওয়েবসাইট বন্ধ রেখেও সাইবার হামলার শিকার জনতা ব্যাংক কেরানীগঞ্জে যুব মহিলা লীগ নেত্রী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৩ কেরানীগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবনের পাশে অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার ইরানে দ্বিতীয় দফা যুদ্ধের শঙ্কা, বিপদে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬

সারা দেশে আরও তীব্র হচ্ছে শীতের প্রকোপ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬

কনকনে শীতে কাঁপছে রাজধানীসহ সারা দেশ। দেশজুড়ে শীতের প্রকোপ খানিকটা বাড়তে পারে। রাজধানী ঢাকায় আজ সকালে কুয়াশা ছিল। দুপুরের দিকে রোদের মুখ দেখা গিয়েছিল অল্প সময়ের জন্য। সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

দেশের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা অন্তত আরও এক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা ওঠানামা করার পাশাপাশি সারা দেশে ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া এই ৯ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিফতরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে দেশে তিন থেকে পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে একটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহে রূপ নেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

দেশজুড়ে শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। নিউমোনিয়া, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন মৌসুমি রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসছে অনেকে। চিকিৎসকরা বলছেন, এসব রোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা। ফলে তাদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই শীতে অনেকেই আগুন পোহাতে গিয়ে কিংবা গরম তরল ও পানিতে পুড়ে দগ্ধ হচ্ছে। হাসপাতালে পোড়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শীতের সময় আবহাওয়া থাকে শুষ্ক। তাই আগুন ছড়ায় দ্রুত। এবারের শীতে পোড়া রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে জায়গার সংকুলান হচ্ছে না। বিশেষ করে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে হিমশিম অবস্থা। দেশের চারটি বড় হাসপাতালের বার্ন ইউনিট আংশিক বা পূর্ণভাবে করোনা চিকিৎসায় ব্যবহার হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে সারা দেশে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ৯৫ হাজার ৩৭৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে ৬৬ হাজার ৮৫৪ জন ডায়রিয়া এবং ২৮ হাজার ৫২৪ জন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়। এ সময় শীতজনিত রোগে মোট ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে ৪০ জন এবং ডায়রিয়ায় মারা গেছে ৪ জন।

২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের সরকারি হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ২ হাজার ২৪ জন ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে ৬৩০ জন এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৪১৩ জন রোগী ভর্তি হয়।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, রাজধানীর তাপমাত্রা খানিকটা কমেছে। গতকাল সকালে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, দুয়েক দিন আবহাওয়া এমন থাকতে পারে। বৃষ্টি না হলে কুয়াশা কাটার সম্ভাবনা কম।

আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ মো. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, রাজধানীতে শীতের প্রকোপ খানিকটা বেড়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী বুধবার তাপমাত্রা অনেকটাই কমে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন করে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতরের দেওয়া এ মাসের দীর্ঘকালীন পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জানুয়ারিতে দেশের ওপর দিয়ে অন্তত পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। যখন কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তখন তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে। তাপমাত্রা ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে বলা হয় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। আর তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, ৫০০ শয্যার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের ২০ শয্যার আইসিইউ, ২২ শয্যার পুরুষ এইচডিইউ এবং ৩০ শয্যার নারী এইচডিইউসহ মোট ৭২টি নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র রয়েছে। শীতে দুর্ঘটনা বাড়ায় গড়ে দৈনিক ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ ঢাকার বাইরে থেকে আসছে। দগ্ধদের ৬০ শতাংশই শিশু ও নারী। ঢামেকের ১০০ শয্যার বার্ন ইনস্টিটিউটেও প্রায় সমসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...