• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা কেরানীগঞ্জে আমান প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিহত ১ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার ‘মজা করে কমেন্ট করেছি’, প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে মন্তব্যে যুবকের ৭ দিনের রিমান্ড সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘মিথ্যা’ দাবি আইনজীবীর ওয়েবসাইট বন্ধ রেখেও সাইবার হামলার শিকার জনতা ব্যাংক কেরানীগঞ্জে যুব মহিলা লীগ নেত্রী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৩ কেরানীগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবনের পাশে অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার ইরানে দ্বিতীয় দফা যুদ্ধের শঙ্কা, বিপদে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬

সেদ্ধ, পোচ নাকি অমলেট- কিভাবে ডিম খেলে বেশি পুষ্টি পাওয়া যায়?

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

সকালের নাশতা হোক কিংবা রাতের খাবার, অনেকেরই পছন্দের শুরুতেই থাকে ডিম। এটি যেমন পুষ্টিকর, তেমনি রান্নাতেও খুব কম সময় লাগে। পুষ্টিবিদরা ডিমকে বলেন ‘সুপারফুড’ বা পুষ্টির ভান্ডার। একটি ছোট্ট ডিমের মধ্যেই প্রোটিন, ভিটামিন বি-১২, কোলিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট আর বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খনিজ থাকে।

অনেকেই ডিম কীভাবে খাবেন- সেদ্ধ করে, পোচ বানিয়ে, নাকি পেঁয়াজ-মরিচ দিয়ে ঝাল ঝাল অমলেট করে- এ নিয়ে বেশ চিন্তিত থাকেন। অনেকেই মনে করেন, অমলেট বানিয়ে খেলে পুষ্টিগুণ কমে যায়। আসলে রান্নার ধরনের ওপরও পুষ্টির মাত্রা নির্ভর করে।

চলুন জেনে নিই, কীভাবে ডিম খেলে কী উপকার পাবেন আর পুষ্টির দিক থেকে কোনটি সবচেয়ে এগিয়ে-

সেদ্ধ ডিম: পুষ্টি পাওয়ার সেরা উপায়

পুষ্টিবিদদের মতে ডিম থেকে যদি আপনি শতভাগ পুষ্টি পেতে চান, তবে সেদ্ধ ডিমের কোনো বিকল্প নেই। পুষ্টিবিদরা একে ডিম খাওয়ার সবচেয়ে নিরাপদ আর স্বাস্থ্যকর উপায় বলে মনে করেন।

ডিম যখন সেদ্ধ করা হয়, তখন এতে আলাদা করে তেল, মাখন বা ঘি মেশাতে হয় না। ডিমের নিজেস্ব যে ফ্যাট আর ক্যালোরি থাকে, ঠিক ততটুকুই শরীরে যায়। বাড়তি কোনো ক্যালোরি জমতে পারে না।

পানিতে সেদ্ধ হওয়ার কারণে ডিমের প্রোটিন তার নিজস্ব গুণাবলি অক্ষুণ্ণ রাখতে পারে। এর ভেতরে থাকা ভিটামিনগুলোও একদম ঠিক থাকে। এ ছাড়া সেদ্ধ ডিম খেলে এর ভেতরে থাকা ফ্যাট এবং ভিটামিনগুলো আমাদের শরীর খুব দ্রুত শুষে নিতে পারে।

আপনি যদি ডায়েটে থাকেন বা ওজন কমাতে চান তাহলে কোনো কিছু চিন্তা না করেই সেদ্ধ ডিম খেতে পারেন।

ডিম পোচ: স্বাদ আর স্বাস্থ্যের মধ্যে সমন্বয়

আপনার যদি প্রতিদিন ডিম সেদ্ধ খেতে বিরক্ত লাগে, তাহলে স্বাদের বৈচিত্র্য আনতে ডিম পোচ করে খেতে পারেন। ডিম পোচ মূলত সামান্য তেলে অথবা ফুটন্ত পানির ভাঁপে দিয়ে তৈরি করা হয়। অমলেটের মতো তেলে ডুবিয়ে ভাজতে হয় না বলে এর পুষ্টিগুণ সেদ্ধ ডিমের বেশ কাছাকাছিই থাকে।

পোচ ডিমে যেহেতু তেলের পরিমাণ খুবই কম থাকে, তাই অতিরিক্ত ক্যালোরির ভয় থাকে না বললেই চলে।

তবে পোচ বানানোর সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। অনেকেই ভেতরের কুসুমটা একদম কাঁচা বা আধাসেদ্ধ রাখেন। কুসুম পুরোপুরি সেদ্ধ না হলে মাঝেমধ্যে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যায়। তাই পেটের সমস্যা এড়াতে কুসুমটা সামান্য হলেও জমতে দেওয়া ভালো।

ডিমের অমলেট: স্বাদে এগিয়ে থাকলেও পুষ্টিতে একটু পিছিয়ে

গরম গরম রুটি বা পরোটার সঙ্গে একটু পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, ধনেপাতা আর গোলমরিচ দিয়ে অমলেট খেতে ভালোবাসেন না, এমন মানুষ খুব কমই আছেন। কিন্তু এভাবে ডিম খেলে পুষ্টিগুণ কিছুটা কমে যায়।

অমলেট বানাতে গেলে অনেকটা পরিমাণে তেল, ঘি বা মাখন ব্যবহার করতে হয়। এই বাড়তি তেল মানেই হলো খাবারে অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট যুক্ত হওয়া। প্রতিদিন যদি বেশি তেলে ভাজা অমলেট খাওয়া হয়, তবে তা শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়াতে পারে। এটি আপনার ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

এ ছাড়া বেশি তাপে কিছুক্ষণ ধরে ভাজলে ডিমের কিছু পুষ্টি উপাদান ও প্রোটিনের গুণমান কমে যেতে পারে।

তাহলে কিভাবে ডিম খাবেন?

ডিম খাওয়ার কোনো পদ্ধতিকেই আসলে একেবারে খারাপ বলা যায় না। তবে আপনি যদি ডিমের গুণমান ঠিক রেখে সবটুকু পুষ্টি পেতে চান, তাহলে ডিম সেদ্ধ করে খান। প্রতিদিন খাওয়ার জন্য সেদ্ধ ডিমকেই এক নম্বরে রাখুন। স্বাদে বদল আনতে চাইলে সপ্তাহে দু-একদিন কম তেলে তৈরি করা অমলেট কিংবা পোচ খেতে পারেন।

তবে অমলেট খেতে মন চাইলে সামান্য সরিষার তেল বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। ভাজার সময় মাঝারি আঁচে রেখে অল্প সময়ে ভেজে নেওয়া ভালো। শরীরের ফিটনেস আর স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে একটু বুঝেশুনে ডিম খেতে পারেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...