রমজানকে ঘিরে মাদারীপুরে লেবুর দাম তিন থেকে চারগুণ বেড়েছে। যেখানে তিন দিন আগে এক হালি লেবু বিক্রি হয়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা এখন সেই লেবু বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, এখন এক হালি লেবু ৫০ টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছে না। জাতভেদে ছোটগুলোর দাম ৭০ টাকা। বাজারে তিন আকারের লেবু দেখা গেছে। সবচেয়ে বড় লেবুর হালি ১০০ টাকা। মাঝারি লেবু ৮০ টাকা।
এছাড়া খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিকন বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা। টমেটো ৫০-৬০ টাকা, গাজর ৪০-৫০ টাকা, মুলা ৩০ টাকা, পেঁপে ৩৫-৪০ টাকা, শসা ৪০-৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত বছর ও এই সময়ে ২০ টাকা করে টমেটোর দাম ছিল।
আরিফুর রহমান নামে এক লেবু ব্যবসায়ী বলেন, কিছুদিন আগেও এক বস্তা লেবুর দাম ছিল ১ হাজার ২শ থেকে দুই হাজার টাকা। এখন কিনতে হয় সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায়। বেশি দামে কেনা, তাই বিক্রিও বেশি দামে। প্রতি বস্তায় ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার লেবু থাকে।
রাজারহাট এলাকার লেবু বাগানের মালিক হোসেন আলি বলেন, লেবুর মৌসুম এখন না, তাই দাম বেশি। উৎপাদন খরচও বেশি। চাষিদের কাছ থেকেই বেশি দামে কেনা।
তার মতে, বৃষ্টির মৌসুমে লেবুর দাম কমে যাবে। তখনই মূল মৌসুম লেবুর। ফলন বেশি হলে দামও কমে যায়। পাইকারি আড়তে বড় ১ পিস লেবু ১৫ থেকে ১৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আর ছোট সাইজের লেবুর দাম ১০ থেকে ১৩ টাকা বলেও জানান তিনি। রমজানে চাহিদা বেশি থাকে। তবে এবার লেবুর মৌসুম আসেনি এখনও। এমন সময় রোজার মাস পড়েছে, মৌসুম ছাড়া দাম কমার সম্ভাবনাও কম বলে জানান এই ব্যবসায়ী।
ক্রেতারা অভিযোগ করে বলেন, রমজান মাস শুরু হয়েছে। তাই দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা। প্রত্যেক বছর রোজা এলেই নানা অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
লেবু ক্রেতা মফেজ মাতুব্বর বলেন, রমজান এলে লেবুর দাম নিয়ে টালবাহানা শুরু হয়। তখন লেবুর দাম আকাশ সমান হয়ে যায়।
তবে মাদারীপুর ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সুচন্দন মন্ডল বলেন, এ বিষয়ে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে কোনো সিন্ডিকেট তৈরি না করতে পারে সে ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি।