• বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন

মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখতে গিয়ে বিড়ম্বনায় বাংলাদেশি দর্শকরা

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

বিশ্বকাপের প্রথম রাতেই বাংলাদেশি দর্শকদের একাংশের অভিজ্ঞতা সুখকর হলো না। মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার সময় দেশের দুই বিশ্বকাপ স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম টফি ও বায়োস্কোপে ঢুকতে না পারা, লগইন সমস্যা, স্ট্রিম চালু না হওয়া, বাফারিং এবং নেটওয়ার্ক এররের অভিযোগ করেছেন অনেক ব্যবহারকারী।

বাংলাদেশে ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচ অনলাইনে দেখার জন্য টফি ও বায়োস্কোপ—দুই প্ল্যাটফর্মের কথাই প্রচারিত হয়েছে। বায়োস্কোপে ৯৭ টাকার পাসে ৫০ দিনের জন্য ১০৪টি ম্যাচ দেখার সুযোগের কথা জানানো হয়েছে। অন্যদিকে টফির আর্লি বার্ড টুর্নামেন্ট পাসের দাম ৯৯ টাকা এবং পরে ১২৯ টাকা হওয়ার কথা প্রচারণায় এসেছে।

বাংলালিংক এর আগে জানিয়েছিল, টফির মাধ্যমে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও স্মার্ট টিভিতে বিশ্বকাপের সব ১০৪টি ম্যাচ দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রামীণফোনের বায়োস্কোপ, মাইজিপি ও স্কিটো অ্যাপের মাধ্যমেও ম্যাচ দেখার কথা জানানো হয়েছে।

তবে উদ্বোধনী রাতেই ব্যবহারকারীদের অভিযোগে দেখা যাচ্ছে, খেলা দেখার আগেই অনেকে লগইন পর্যায়েই আটকে যাচ্ছেন। কারও স্ক্রিনে নেটওয়ার্ক এরর দেখাচ্ছে, কারও ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন সফল হওয়ার পরও পরের ধাপে যাওয়া যাচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার পর খেলা দেখতে না পারার অভিযোগ করেছেন অনেক দর্শক।

প্রতিবেদক নিজেও দেখেছেন বায়োস্কোপে মোবাইল নম্বর দেওয়ার পর ক্লাউডফ্লেয়ার ভেরিফিকেশন সফল হলেও নিচে লাল অক্ষরে “Network Error” দেখাচ্ছে। ফলে ব্যবহারকারী লগইনের পরের ধাপে এগোতে পারছেন না।

এ ধরনের সমস্যা শুধু বিরক্তির নয়, দর্শকদের জন্য আর্থিক ও মানসিক ভোগান্তিরও কারণ। কারণ অনেকে আগেই পাস কিনেছেন, কেউ নির্দিষ্ট ডেটা প্যাক নিয়েছেন, আবার কেউ রাত জেগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও প্রথম ম্যাচ দেখার প্রস্তুতি নিয়েছেন। কিন্তু খেলা শুরুর সময় প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে না পারলে পুরো অভিজ্ঞতাই নষ্ট হয়ে যায়।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত টফি বা বায়োস্কোপের পক্ষ থেকে স্ট্রিমিং বা লগইন সমস্যার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তাই বিভ্রাটটি কতটা বিস্তৃত, কতক্ষণ স্থায়ী হয়েছে বা কোন ধরনের ব্যবহারকারীরা বেশি সমস্যায় পড়েছেন—তা এখনো পরিষ্কার নয়।

বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের ওপর চাপ অনেক বেশি থাকে। বিশেষ করে উদ্বোধনী ম্যাচ, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা-পর্তুগালের মতো জনপ্রিয় দলের ম্যাচ এবং রাতের গুরুত্বপূর্ণ খেলাগুলোতে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক দর্শক অ্যাপে ঢোকার চেষ্টা করেন। সেই চাপ সামলানোই ডিজিটাল সম্প্রচার প্ল্যাটফর্মগুলোর বড় পরীক্ষা।

চার বছর পর বিশ্বকাপ দেখতে বসে বাংলাদেশি দর্শকেরা চান নিরবচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতা। কিন্তু প্রথম রাতেই টফি-বায়োস্কোপে লগইন ও স্ট্রিমিং ভোগান্তির অভিযোগ দেখাল, ডিজিটাল সম্প্রচারের লড়াই শুধু অধিকার কেনায় শেষ হয় না; সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয় ম্যাচ শুরুর মুহূর্তে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...