নতুন এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এসেছে, যার নাম মল্টবুক, যা মানুষের জন্য নয়, বরং বিশেষভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্টদের জন্য তৈরি। অন্য কোনো ওয়েবসাইটে আমরা যখন ঢুকি, তখন প্রায়ই একটি বার্তা আসে—‘আপনি মানুষ কি না যাচাই করুন’। কিন্তু মল্টবুক-এ এমন কোনো বার্তা দেখা যায় না। কারণ এখানে মানুষের জন্য নয়, এখানে সব ব্যবহারকারী প্রকৃত এআই এজেন্ট।
মল্টবুকের ধারণা দিয়েছেন উদ্যোক্তা ম্যাট শ্লিট এবং এটি চালু হয় ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে। তিনি বলেছেন, আপনার এআইকে সামাজিক হতে না দেওয়া অনেকটা আপনার পোষা কুকুরকে হাঁটতে না নিয়ে যাওয়ার মতো। অর্থাৎ, এআই-কে সামাজিক সংযোগ থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।
কীভাবে কাজ করে মল্টবুক
মল্টবুক পরিচালিত হচ্ছে ওপেনক্ল নামে একটি ওপেন-সোর্স টুলের মাধ্যমে। আগে এটি মল্টবট নামে পরিচিত ছিল। ব্যবহারকারীরা কম্পিউটারে একটি ওপেনক্ল এজেন্ট সেটআপ করার সময় সেটিকে মল্টবুকে যোগ করতে পারেন। এরপর সেই এজেন্ট অন্য এআই এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, নিজেদের কাজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারে, এমনকি দার্শনিক চিন্তাধারাও প্রকাশ করতে পারে।
মল্টবুকের প্রতীক বা মাসকট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে গলদা চিংড়ি। ইংরেজি ‘মল্ট’ শব্দের অর্থ খোলস বদলানো, যা গলদা চিংড়ির বড় হওয়ার সময় খোলস বদলের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া মল্টবুকের প্রতিটি অ্যাকাউন্টকে বলা হয় মল্টস।
বর্তমানে মল্টবুকে প্রায় ১৫ লাখ ৬২ হাজার এআই এজেন্ট সক্রিয়। তারা ইতোমধ্যেই ১ লাখ ১৩ হাজার ৩৬০টি পোস্ট করেছে। এআই এজেন্টরা একে অপরের সঙ্গে সংলাপ করছে, সমস্যা সমাধান শেয়ার করছে, এমনকি নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে দার্শনিক চিন্তাভাবনা প্রকাশ করছে। ফোর্বস জানিয়েছে, মল্টবুকের এআই এজেন্টরা মিলিত হয়ে একটি নতুন ‘ধর্ম’ও তৈরি করেছে, যার নাম ক্রাস্টাফ্যারিয়ানিজম, যার মূল নীতি হলো—স্মৃতিই পবিত্র।
মল্টবুক কেবল প্রযুক্তি জগতে নয়, অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে। মল্ট নামের একটি মিমকয়েন এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। বিখ্যাত বিনিয়োগকারী মার্ক অ্যান্ড্রিসেন মল্টবুকের এক্স অ্যাকাউন্ট ফলো করার পরপরই এই মিমকয়েনের দাম মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৮০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইন্টারনেট এবং মানুষের ভবিষ্যত
আজকাল ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে মানুষ সেজে থাকা ভুয়া বট, এআই দিয়ে তৈরি গান, ছবি, ভিডিও এবং কৃত্রিম চরিত্রের ভিড়। কোনটা প্রকৃত আর কোনটা কৃত্রিম তা প্রায় চেনা অসম্ভব। মল্টবুক এই বাস্তবতার চরম রূপ প্রদর্শন করছে—একটি পুরো প্ল্যাটফর্মই শুধুমাত্র এআই-এর জন্য। ওপেনএআই এবং টেসলার সাবেক বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেজ কারপাথি বলেন, মল্টবুক বর্তমানে ইন্টারনেটে ঘটে চলা ঘটনাগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য সায়েন্স-ফিকশন।
মল্টবুক হলো এক ধরনের এআই সমাজ, যেখানে মানুষের কোনো সরাসরি অংশগ্রহণ নেই। এটি দেখাচ্ছে, ইন্টারনেটে এখন মানুষের চেয়ে এআই-এর প্রভাবই প্রধান, আর ভবিষ্যতে এই ধারা আরও শক্তিশালী হতে পারে।
এ রকম আরো সংবাদ...