রাজধানীতে একই সময়ে মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বোমাসদৃশ দুটি পরিত্যক্ত বস্তু উদ্ধারকে কেন্দ্র করে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বোমা বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়, বস্তু দুটিতে কোনো ধরনের বিস্ফোরক ছিল না। তবে গত এক সপ্তাহে রাজধানী ও আশপাশে একের পর এক বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে সন্দেহজনক দুটি পরিত্যক্ত বস্তু দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেন।
মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পাওয়া একটি সন্দেহজনক ব্যাগ এক্স-রে পরীক্ষায় ভেতরে কৌটাসদৃশ একটি বস্তু দেখা যায়। পরে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসরণ করে ফ্র্যাঞ্জিবল ডিসরাপ্টরের মাধ্যমে সেটি নিরাপদে পরীক্ষা করা হয়। ব্যাগ খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে ছিল জর্দার একটি কৌটা ও পান। কোনো বিস্ফোরক বা ক্ষতিকর বস্তু পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি পরিত্যক্ত বস্তাকে ঘিরেও বোমা সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়, বস্তার ভেতরে কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক বস্তু নেই।
এর আগে ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে জেনারেটর রুমের পাশে একটি পরিত্যক্ত ছাতার ভেতর থেকে একটি কার্যকর আইইডি বা পাইপ বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিন ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে শুরু হওয়া উল্টোরথের শোভাযাত্রা ওই এলাকা অতিক্রম করার কথা ছিল। আনসার সদস্যদের সতর্কতায় বিষয়টি শনাক্ত হলে পরে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে ডিভাইসটি নিষ্ক্রিয় করে।
সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার হওয়া পাইপ বোমার ভেতরে সালফারজাতীয় বিস্ফোরক উপাদান, বেয়ারিং বল, তারকাঁটা ও ধারালো লোহার টুকরো ছিল। ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক সার্কিটের সঙ্গে ছাতার বোতাম সংযুক্ত থাকায় ছাতাটি খুললে বিস্ফোরণ ঘটতে পারত। বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণের স্প্লিন্টারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মী আহত হন।
ঘটনার পর মতিঝিল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করা হয়। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কে বা কারা ডিভাইসটি সেখানে রেখেছিল তা শনাক্তের চেষ্টা করছেন। প্রাথমিকভাবে এটিকে সম্ভাব্য নাশকতার চেষ্টা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে ৩১ জুলাই আশুলিয়ার খেজুর বাগান এলাকায় একটি চায়ের দোকানে রাখা পরিত্যক্ত ব্যাগের ভেতর থেকে প্রেসারকুকার আকৃতির একটি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়। পরে সেটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়। এ ঘটনাতেও তদন্ত চলছে।
ডিএমপির মিরপুর জোনের সহকারী কমিশনার আবুল বাশার বলেন, সন্দেহজনক ব্যাগে বিস্ফোরক থাকার আশঙ্কা করা হলেও পরীক্ষায় তেমন কিছু পাওয়া যায়নি এবং পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জনসমাগমস্থলে কোনো সন্দেহজনক বস্তু দেখলে সেটি স্পর্শ না করে দ্রুত পুলিশকে জানানো উচিত। তদন্তকারীদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক প্রতিটি ঘটনাই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।