কেরানীগঞ্জে ভূমি অফিসের দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কেরানীগঞ্জ মডেল সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে সরেজমিন তদন্ত চালিয়েছে দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম।
দুদক সূত্র জানায়, গত ১১ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে কেরানীগঞ্জ মডেল এসিল্যান্ড জান্নাতুল মাওয়া ও তার কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে দুদকের সহকারী পরিচালক আরিফ আহম্মদের নেতৃত্বে একটি টিম কেরানীগঞ্জ মডেল ভূমি অফিসে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।
তদন্ত চলাকালে সংবাদে উল্লেখিত অভিযোগকারীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে অভিযোগের বিস্তারিত জানার চেষ্টা করে দুদক টিম। একই সঙ্গে এসিল্যান্ড জান্নাতুল মাওয়ার কাছ থেকেও অভিযোগসংক্রান্ত বক্তব্য নেওয়া হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করা হয় বলে জানায় দুদক।
শুনানি শেষে দুদক এনফোর্সমেন্ট টিমের প্রধান সহকারী পরিচালক আরিফ আহম্মদ বলেন, সংবাদে উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্ত করা হয়েছে। অভিযোগকারী নিজেই জানিয়েছেন, টাকা চাওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছিল তা সঠিক নয়। তিনি আরও বলেন, এসিল্যান্ড বা তার কার্যালয়ের কেউ তার কাছে কোনো ধরনের অর্থ দাবি করেননি।
এদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে কেরানীগঞ্জ মডেল এসিল্যান্ড জান্নাতুল মাওয়া বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ভূমি অফিসে সক্রিয় দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে একটি অসাধু মহল ক্ষুব্ধ হয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার ও অফিসের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক এবং ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
দুদকের প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।