• বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন

উদ্ধারের পর গায়েব এক লাখ ইয়াবা, ওসির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশের বিরুদ্ধে ওঠা ভয়াবহ অভিযোগ নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে মাদকবিরোধী অভিযান, পুলিশের জবাবদিহিতা এবং আইন প্রয়োগের স্বচ্ছতাকে। কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা এক লাখ ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করেও মামলা না করা, অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়া এবং উদ্ধার হওয়া মাদক রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের করা এক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের পরও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। শুধু তাই নয়, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী উদ্ধার হওয়া ইয়াবা বড়িগুলো আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বাকলিয়া থানার তৎকালীন ওসি আফতাব উদ্দিন। তদন্ত প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, আইন লঙ্ঘন, প্রমাণ সংরক্ষণে ব্যর্থতা এবং অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। অথচ তদন্ত প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানোর পরও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

গত বছরের ৮ ডিসেম্বর এই মাদক উদ্ধারের ঘটনাটি ঘটেছিল। পরবর্তীতে মাদক বহনকারীর সঙ্গে অন্য এক ব্যক্তির কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সবার সামনে আসে। এই ঘটনার পর অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরীকে প্রধান করে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা মেলার পর ইতোমধ্যে আটজন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে দুইজন উপপরিদর্শক, চারজন সহকারী উপপরিদর্শক এবং দুইজন কনস্টেবল রয়েছেন। ঘটনার সময় বাকলিয়া থানার দায়িত্বে থাকা আফতাব উদ্দিন বর্তমানে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...