• বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন

ডাকাতির পর মা ও মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় এক চাকরিজীবীর বাড়িতে ডাকাতির পর ভুক্তভোগী গৃহকর্তার স্ত্রী ও তার দশম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (৮ জুন) রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের সিকদারপাড়া ডলনিরঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. মাসুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছে, গভীর রাতে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ডাকাতরা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে ওই বাড়িতে অবস্থানরত তার স্ত্রী ও তার মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

পরে স্বজনরা ভুক্তভোগী মা-মেয়েকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান।

খবর পেয়ে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশসহ থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে।

স্কুলছাত্রীর এক মামা জানান, তার বোন ও তার স্কুল পড়ুয়া ভাগনিকে পাশবিক অত্যাচার করেছে ডাকাত দল। বর্তমানে তার ভাগনির অবস্থা আশঙ্কাজনক। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ছয়জনকে আটক করে।

আটকরা হলেন মাতামুহুরী উপজেলার ডলুনিঘোনা এলাকার রেজাউল করিম (৩৬), তোফাজ্জল হোসেন ওরফে বাবু (২৩) ও তার ভাই কেফায়েত হোসেন ওরফে পুইত্যা (২৭), মোহাম্মদ তানজিদ (২৪), সাহারবিল ইউনিয়নের কদ্দাছড়া এলাকার মেহেদী হাসান (২৪) এবং কোরালখালী এলাকার মোহাম্মদ তারেক (২৬)।

চকরিয়া থানার ওসি মো. মনির হোসেন জানান, ঘটনাটি রাতে অবহিত হওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরে স্থানীয় জনতার সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে একই রাতে ১টার দিকে কদ্দার ছড়া এলাকায় এক প্রবাসীর বাড়ি থেকে ডাকাত দল প্রায় ১০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।

এর আগে ঈদুল আজহার আগের দিন একই ওয়ার্ডের অলির বাপের পাড়ায় ডাক্তার জাফর আলমের বাড়িতে চুরি এবং পরে পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির চেষ্টার ঘটনাও এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

এদিকে ক্রমবর্ধমান চুরি-ডাকাতির ঘটনায় এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ গ্রিলকাটা ডাকাত চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...