• মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:১৪ অপরাহ্ন

ঢাকা কলেজের কেরানী মনির ও দুই স্ত্রীর নামে ৫০ কোটি টাকার সম্পদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

দুর্নীতির অঘোষিত রাজা কেরানি মনির: বেতন কম হলেও সম্পদের পাহাড়।

ঢাকা কলেজের একজন সাধারণ তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়ে ও মনিরের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র ও একাধিক অভিযোগকারীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব-প্রতিপত্তি ব্যবহার করে তিনি নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে ঢাকা কলেজে কর্মরত থাকলেও মনির বিভিন্ন সময় নিজেকে সাংবাদিক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তা কিংবা শিক্ষা অফিসের উচ্চপদস্থ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে নানা জায়গায় দাপট দেখান। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রভাব খাটিয়ে তিনি প্রশাসনিক সুবিধা নেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে থাকেন।
রাজধানীতে বিলাসবহুল সম্পদের অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,

রাজধানীর কালশী এলাকায় বহুতল ভবনে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে মনিরের। এছাড়াও মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১৭৮০ বর্গফুটের একটি অভিজাত ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একজন সাধারণ কর্মচারীর বেতনের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য নেই।
এছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তার নামে-বেনামে আরও সম্পদ থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস ও কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ব্যাংকে কোটি টাকার সঞ্চয়ের অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন ব্যাংকে মনিরের প্রথম স্ত্রী রিমান নামে কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র, এফডিআর ও ব্যাংক আমানত রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব অর্থের উৎস অস্বচ্ছ এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রভাব খাটিয়ে এসব অর্থ অর্জন করা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বা মনিরের পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চুয়াডাঙ্গায় গড়ে উঠেছে সম্পদের সাম্রাজ্য
নিজ জেলা চুয়াডাঙ্গাতেও মনিরের বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। শহরের মুসলিমপাড়ায় প্রায় ১৪ কাঠা জমির ওপর নির্মিত বাগানবাড়ি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। এছাড়াও শহরের লিনার মোড় এলাকায় প্রায় ৫০ লক্ষাধিক টাকার সম্পত্তির মালিকানা থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা শহরে দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে একটি চারতলা ভবন নির্মাণ করেছেন মনির। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, সরকারি চাকরিজীবীর সীমিত আয়ে এত বিপুল সম্পদ কীভাবে অর্জন সম্ভব?
দাপট, ভয়ভীতি ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ
মনিরের বিরুদ্ধে কেবল সম্পদ অর্জনের অভিযোগই নয়, রয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের নানা অভিযোগও। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষা বিভাগে তিনি একজন ‘মাফিয়া চক্রের সদস্য’ হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর এবং ব্যক্তিগত বিরোধে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন তিনি।
আরও অভিযোগ রয়েছে, এক ভ্যানচালকের স্ত্রীকে জোরপূর্বক নিজের কাছে রাখার ঘটনা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানালে ওই ভ্যানচালককে মারধরের অভিযোগও ওঠে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আদালতের রায় বা আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ হয়নি।
এছাড়াও নারী কেলেঙ্কারি, অনৈতিক সম্পর্ক এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে তার জড়িত থাকার অভিযোগ স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরছে।
তদন্ত ও শাস্তির দাবি
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল মনিরুজ্জামান মনিরের সম্পদের উৎস, ব্যাংক হিসাব, জমি ও ফ্ল্যাটের মালিকানা এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, “একজন সাধারণ কর্মচারীর পক্ষে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া অস্বাভাবিক। তাই তার সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা জরুরি।”
তবে প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত মনিরুজ্জামান মনিরের ব্যক্তিগত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...